Posts

গল্প: পৃথিবীর প্রতিবিম্ব

Image
 গল্প:   পৃথিবীর প্রতিবিম্ব রাত তখন গভীর। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে, কিন্তু স্নিগ্ধ আলোয় যেন সারা পৃথিবী ঢেকে গেছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। গ্রামের শেষ প্রান্তে একা বসে আছে রঞ্জু। জীবন নিয়ে তার ক্ষোভের অন্ত নেই। দারিদ্র্য, অপমান, আর একাকীত্বের ভারে তার মন যেন ক্রমশই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। "সব শেষ হয়ে গেছে," নিজের মনে বলে ওঠে রঞ্জু। "মরার চাইতে ভালো কিছু নেই।" এমন সময় হঠাৎ কে যেন তার পেছন থেকে বলে উঠল, "তুমি কি সত্যিই মরতে চাও?" রঞ্জু চমকে পেছনে তাকায়। দেখে, অদ্ভুত এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও বৃদ্ধের চোখে অদ্ভুত এক জ্যোতি। "তুমি কে?" রঞ্জু জিজ্ঞাসা করে। বৃদ্ধ ধীরে ধীরে হাসল। "আমি একজন পথিক। শুনলাম তুমি মরণ চাও। কিন্তু মরার আগে কিছু বোঝা দরকার, তাই এখানে এসেছি।" রঞ্জু বিস্মিত হয়ে বলে, "কি বোঝাবেন?" বৃদ্ধ বললেন, "জীবন হলো আয়নার মতো। তুমি যা চাইবে, তাই পাবে। মরণ চাইলে, মরণ আসবেই। কিন্তু খুব করে বাঁচতে চেয়েছ কখনো?" রঞ্জু মাথা নাড়ল। "সবাই শুধু কষ্টই দিয়েছে। ভালো কিছু চাইব কিভাবে...

দূরত্বের প্রাচীর

Image
 দূরত্বের প্রাচীর নন্দিতা আর সুমিতের বিয়ের সম্পর্কটা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে   হয়েছিল।  সবকিছু যেন ঠিকঠাক চলছিল। দুজনের স্বপ্ন ছিল বিয়ের পর নতুন জীবনে একে অপরের হাত ধরে চলবে। কিন্তু জীবন তো আর সিনেমা নয়। বিয়ের প্রথম বছরটা বেশ ভালোই কাটল। নন্দিতা সুমিতের ছোটখাটো ভুলগুলো এড়িয়ে যেত, আর সুমিত নন্দিতার আবদারগুলো হাসিমুখে মেনে নিত। কিন্তু ধীরে ধীরে তুচ্ছ বিষয়গুলো বড় হয়ে উঠতে শুরু করল। একদিন নন্দিতা আবিষ্কার করল, সুমিতের অফিসের এক সহকর্মী মেয়ে । যদিও সুমিত এটাকে, বারবার বুঝিয়ে বলতো এসব অফিসে চাকরি  ছেলে - মেয়ে একসাথে করে।  তবু নন্দিতার মনে সন্দেহ দানা বাঁধল। সে প্রতিদিন সুমিতকে এ নিয়ে প্রশ্ন করত, আর সুমিত প্রতিবার বিরক্ত হয়ে উত্তর দিত, "তুমি কি আমায় বিশ্বাস করতে পারো না?" নন্দিতা ছিলো প্রচুর সন্দেহ প্রবণ।  তার সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি রকম সন্দেহ ছিলো।  অন্যদিকে, সুমিত অভিযোগ করত যে নন্দিতা তার পরিবারের ব্যাপারে খুবই উদাসীন। সে নন্দিতাকে বোঝাতে চেষ্টা করত, "তোমার দায়িত্ব কেবল আমায় নিয়ে নয়, আমার মা-বাবার প্রতিও।" কিন্তু নন্দিতা বলত, "তোমার মা-বাবা, ভাই- বোন ...

শাড়ির ভাঁজে লুকানো ভালোবাসা

Image
  শাড়ির ভাঁজে লুকানো ভালোবাসা     রাতের অন্ধকারে জেগে ওঠে প্রেম, কিন্তু দিনের আলোয় কোথাও যেন হারিয়ে যায় সম্পর্কের গভীরতা। তন্ময় আর সোহিনীর বিয়েটা হয়েছিল চার বছর আগে। প্রথম দুই বছর ভালোই চলছিল। তন্ময় ভালোবাসা দিয়েই সোহিনীকে জয় করেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ভালোবাসার বদলে এসেছে অধিকার, মমতার বদলে এসেছে অবহেলা। তন্ময়ের জীবনের ব্যস্ততা তাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল যে, তার পাশে থাকা মেয়েটি শুধু তার সঙ্গী নয়, তার জীবনের পরিপূরক। এক সন্ধ্যায় তন্ময় বাসায় ফিরল ক্লান্ত হয়ে। সোহিনী দরজা খুলে বলল, “কেমন আছো? কিছু খাবে?” তন্ময় বিরক্ত হয়ে বলল, “সবসময় এসব প্রশ্ন করো কেন? নিজের কাজ করো। সারাদিন তো ঘরেই থাকো, তোমার আর কাজ কী!” সোহিনী একটু থেমে হাসল। কিন্তু তার হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল একরাশ কষ্ট। সে জানত, তন্ময়ের এসব কথা তার মনের নয়, শুধু রাগের বহিঃপ্রকাশ। সেদিন রাতে তন্ময় খেয়াল করল, সোহিনী বেশ চুপচাপ। অন্যদিনের মতো খুনসুটি করছিল না। কিন্তু তার এই নীরবতায় তন্ময়ের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। পরদিন সকালে তন্ময়ের ঘুম ভাঙল একটা অদ্ভুত শব্দে। দেখে সোহিনী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ি পরছে। তার মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।...

A Father's Struggle: Story গল্প একটি বাবার সংগ্রামের

Image
  A Father's Struggle: Story গল্প একটি বাবার সংগ্রামের রামকালির জীবন: পিতৃত্বের আলো রামকালি ছিলেন গ্রামীণ বাংলার এক সাধারণ মানুষ। অল্প বয়সেই তিনি জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর জীবনে স্থিরতা বলতে ছিল ছোট্ট একটি চৌচালা ঘর এবং নিত্যদিনের পরিশ্রম। তবে সবকিছু পাল্টে গেল সেদিন, যেদিন সত্যবতী তার জীবনে এল। সত্যবতী ছিলেন রামকালির স্ত্রী। বিয়ের কয়েক বছর পর তাদের ঘরে এলো একটি কন্যাসন্তান। মেয়েটির নাম রাখা হলো গৌরী। গৌরী যখন প্রথমবার কাঁদল, তখনই রামকালি বুঝলেন, তার জীবন বদলে গেছে। পিতৃত্বের প্রথম অভিজ্ঞতা গৌরীর জন্মের পর রামকালির জীবন যেন নতুন অর্থ পেল। প্রতিদিন কাজ থেকে ফিরে রামকালি ছোট্ট গৌরীর পাশে বসে তার ছোট্ট আঙুলগুলো ধরে থাকতেন। গৌরীর প্রথম হাঁটতে শেখা, প্রথম কথা বলা, আর প্রতিদিনের হাসি রামকালির ক্লান্তি দূর করে দিত। মেয়ের প্রতি যত্ন গৌরীর বয়স পাঁচ হতে না হতেই সে প্রতিদিন নতুন নতুন প্রশ্ন করতে শুরু করল। "বাবা, পাখিরা এত সকালে ওঠে কেন?" "বাবা, আকাশ কেন নীল?" রামকালি সবসময় হাসিমুখে উত্তর দিতেন, যদিও তার অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা ছিল না। তবে তিনি মেয়ের জ...