গল্প: কালোজাদু, পিচাশ, পেত্নী ও সাহায্যকারি জ্বিন

 

 গল্প: কালোজাদু, পিচাশ, পেত্নী ও সাহায্যকারি জ্বিন 










দূর গ্রামে একটি পুরোনো মাটির ঘর ছিল। সেই ঘরের মালিক ছিলেন মনির হোসেন। মনিরের একমাত্র ছেলে আরিফ এবং তার বউ মায়া। মনিরের এই ঘরটি বহু পুরোনো এবং অনেকেই বিশ্বাস করত যে ঘরটিতে পিশাচ আর পেত্নীর বাস। মনির এসব কথা বিশ্বাস করতেন না। তিনি শুধু বলতেন, "এগুলো গ্রামের মানুষের গুজব।"


কিন্তু আরিফের বউ মায়া এ নিয়ে অনেক ভয় পেত। মায়া সবসময় অনুভব করত, যেন কেউ তাদের দেখছে। রাতে তাদের ঘরের জানালা কাঁপতে থাকত, অথচ বাইরে কোনো বাতাস থাকত না। ঘরের দেয়ালে অদ্ভুত ছায়া ঘুরে বেড়াত।


কালোজাদুর সূত্রপাত


একদিন গ্রামের এক তান্ত্রিক, করিম ফকির, মনিরের বাড়ি এসে বলল, "তোমার এই ঘর অভিশপ্ত। এখানে পিশাচ আর পেত্নী বাস করে। তাদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে তোমার ছেলে আর তার বউ বিপদে পড়বে।" করিম ফকির প্রতিশ্রুতি দিল যে, সে কালোজাদুর মাধ্যমে এই পিশাচ আর পেত্নীকে চালনা করতে পারে।


মনির প্রথমে রাজি না হলেও আরিফ ও মায়ার নিরাপত্তার জন্য করিম ফকিরকে সাহায্যের অনুমতি দিলেন।


জাদুর ভয়ঙ্কর প্রভাব


করিম ফকির শুরু করল তার কালোজাদু। রাতের গভীরে, মাটির ঘরের উঠানে তান্ত্রিক মন্ত্র পড়ে আগুন জ্বালাল। আরিফ ও মায়া ঘরে বসে মন্ত্রের শব্দ শুনছিল। ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। মায়া আতঙ্কে আরিফকে বলল, "এটা ঠিক হচ্ছে না। আমি ভয় পাচ্ছি।"


মন্ত্র শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের ভেতরে অদ্ভুত কিছু ঘটতে শুরু করল। মায়ার শরীর হঠাৎ অজানা শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে লাগল। সে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আচরণ করতে শুরু করল। আরিফ দেখল, মায়ার চোখ পুরো কালো হয়ে গেছে। সে পিশাচের মতো হাসতে শুরু করল।


পাশের ঘর থেকে করিম ফকির চিৎকার করল, "আমি তাদের নিয়ন্ত্রণ করেছি। এখন তারা তোমার সেবক।" কিন্তু আরিফ বুঝল, মায়া আসলে বিপদে পড়েছে।

পিশাচ ও পেত্নীর প্রতিশোধ


করিম ফকির নিজের লাভের জন্য কালোজাদু চালিয়ে পিশাচ আর পেত্নীকে বশ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু পিশাচ ও পেত্নী তাকে ঠকিয়ে ফেলে। তারা করিম ফকিরের মন্ত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে পুরো বাড়ি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। করিম ফকির ভয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও পিশাচ তাকে ধরল।


এদিকে, আরিফ এক বুড়ো গ্রামবাসীর কথা মনে করল। তিনি বলেছিলেন, "পিশাচ আর পেত্নীর বিরুদ্ধে ভালো শক্তি ব্যবহার করতে হবে। বিশ্বাস আর সাহসই পারে এই দানবদের পরাজিত করতে।"


আরিফ মায়াকে জাগিয়ে তোলার জন্য আল্লাহর নাম নিয়ে দোয়া করতে লাগল। সেই দোয়া শুনে মায়ার কালো চোখ স্বাভাবিক হতে লাগল। পিশাচ ও পেত্নী আরিফের দোয়ার শব্দ সহ্য করতে পারছিল না।



ঘরের শান্তি ফেরত


অনেকক্ষণ দোয়া পড়ার পর কাজ হচ্ছিলো না।  পিশাচ আর পেত্নী ভয়ংকর হাসি ও চিৎকার করে বলে, "যত দোয়া পড় আমরা এই ঘর ছেড়ে চলে যাব না,  তোর বড় হুজুরও পাড়বেনা আমাদের তাড়াতে।  এভাবে আর আমাদের বিরক্ত করিস না।" তারপর তারা অদৃশ্য হয়ে গেল।

করিম ফকির যখন বুজলেন ওদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তখন তিনি  তার সাহায্যকারি জ্বিন কে ডাকলেন, জ্বিন ও পিশাচদের মধ্যে ভীষন যুদ্ব বাধলো, মনে হলো ঘর তছনছ হয়ে যাচ্ছে। 

 করিম ফকিরের সাহায্য কারি জ্বিন  তাদের পরাজিত করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন। 

এখনও প্রতিরাতে আরিফ ও মায়া শোনে  পিশাচ আর পেত্নী চিৎকার করে বলেছে : "আমরা আবার আসবো"


শেষ।




গল্প বা পডকাস্টটি শুনতে উপড়ের ছবিতে ক্লিক করুন। 

Comments

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই