Posts

Showing posts from 2024

গল্প: রাতের ট্রেন

Image
 গল্প: রাতের ট্রেন   রাত গভীর। ট্রেনটি অজানা গন্তব্যে ছুটে চলেছে। জানালার পাশে বসে থাকা মানুষটি ঘুমিয়ে নেই, অথচ চোখে এক ধরনের স্থিরতা। এই নিঃসঙ্গ যাত্রীর নাম অনিক। তার মুখে ক্লান্তির ছাপ, অথচ মনের ভেতর চলছে এক উত্তাল ঝড়। বুকপকেটে হাত দিয়ে সে বারবার চিঠিটি স্পর্শ করছে, যেটি সে রেখে এসেছে তন্ময়া নামে একজনের জন্য। চিঠির প্রতিটি শব্দ তার নিজের হাতে লেখা, কিন্তু প্রতিটি বাক্যে রয়েছে অপরাধবোধ আর দুঃখের ছাপ। তন্ময়া কে অনিক মাঝে মাঝে ভালোবেসে নীলা বলেও ডাকে। চিঠি > নীলা, তোমার আমার গল্পটা এখানেই শেষ। আমি জানি, তোমার প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম, একসঙ্গে আমরা সবকিছু জয় করতে পারব। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তোমার জীবনে শুধু কষ্ট আনাই আমার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমি চললাম, এমন এক শহরে, যেখানে তুমি আমাকে আর খুঁজে পাবে না। তোমার জীবন সুন্দর হোক, এই প্রার্থনাই করে যাচ্ছি। তোমার, অনিক। ট্রেনের ভেতর ট্রেনের ঝাঁকি আর রাতের নিস্তব্ধতায় অনিকের মন বারবার পিছনে ফিরে যাচ্ছে। নীলা, যে একসময় তার জীবনের আলো ছিল, আজ সেই আলো তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অনিক জানালার বাইরে তাকায়। ...

গল্প: নীরা এবং কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর কবিতা অবলম্বনে

Image
 গল্প: নীরা এবং কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর কবিতা অবলম্বনে প্রথম অধ্যায়: প্রথম দেখা নীরা আর কবির প্রথম দেখা হয়েছিল এক সন্ধ্যায়। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর রাস্তার ধারে একটা পুরনো কাঠের বেঞ্চিতে বসেছিল নীরা। তার হাতে ছিল একটা বই, চোখে অদ্ভুত শান্তি। কবি তাকে দূর থেকে দেখে থমকে দাঁড়ায়। সেই মুহূর্তে নীরা যেন এক জীবন্ত কবিতা হয়ে উঠেছিল। কবি কাছে গিয়ে বলেছিল, “তোমার দিকে তাকালে মনে হয় তুমি সরস্বতী। যদিও তুমি মানুষ, তবু দেবীর মতো মনে হয়। তোমার কি জানা আছে তুমি কে?” নীরা হেসেছিল, সেই হাসিতে মিশে ছিল রহস্য। “আমি দেবী নই। আমি কেবল নীরা। আপনি কি সবসময় এমন কথা বলেন?” “আমি কবি। যা মনে আসে তাই বলি। কিন্তু তোমাকে দেখে মনে হয়, আশীর্বাদ চাইতে ইচ্ছে করে। দেবীর মতো আশীর্বাদ দাও।” নীরা অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিল, “আশীর্বাদ চাইতে হলে আগে দেবী হতে হয়। আর আমি তো কিছুই নই।” কবি শুধু বলেছিল, “তুমি আছো, এই সত্যটাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে।” দ্বিতীয় অধ্যায়: সম্পর্কের সূচনা এরপর শুরু হয় তাদের কথোপকথন। নীরা এবং কবি, দুই ভিন্ন জগতের মানুষ। নীরা বাস্তবের মাটিতে পা রেখে চলতে চায়, আর কবি সবকিছুতেই রূপক খুঁজে পায়। নীরা হাসে, “আপনি এত ক...

গল্প: সম্পর্কের ভাঙনের শুরু থেকে শেষ

Image
  গল্প: সম্পর্কের ভাঙনের শুরু থেকে শেষ তন্ময়া ছিল স্বাধীনচেতা, আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু সহজেই রেগে যেত। তার ব্যক্তিত্বে ছিল এক ধরনের তীক্ষ্ণতা, যা ভালোবাসার সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল। আর অনিক? তিনি ছিলেন নরম মনের মানুষ, তন্ময়ার রাগ-অভিমান সামলাতে সবসময় প্রস্তুত। তবে ধীরে ধীরে, তন্ময়ার অহংকার আর রাগ তাদের সম্পর্কের ফাটল আরও গভীর করে তুলতে থাকে। তন্ময়া প্রায়ই অনিককে শুনিয়ে বলত, “তুমি কিছুই পারো না। তোমার সঙ্গে থেকে আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে।” এই কথাগুলো অনিককে ভেতর থেকে ভেঙে দিত। কিন্তু আরোহীর জন্য সব কিছু সহ্য করত সে। অনিকের বোঝাপড়া অনিক চুপচাপ ছিল, কারণ সে জানত, তন্ময়া যা বলে, সবসময় সেটা মনের কথা নয়। কিন্তু একদিন সেই চাপা অভিমান ফেটে পড়ল। “তুমি কি জানো, তন্ময়া? আমি তোমাকে ভালোবেসে সব মেনে নিই। কিন্তু তোমার প্রতিটি কথায় আমার আত্মমর্যাদা ক্ষতবিক্ষত হয়।” তন্ময়া এই কথার কোনো গুরুত্ব দিল না। বরং সে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল, “তুমি কখনো নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করো না। আমাকে বোঝার চেষ্টা করো না।” আরোহীর প্রতি উপেক্ষা তাদের ঝগড়া এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, আরোহীও এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। বাবা-মায়ের মধ্...

তন্ময়া সিরিজ অচেনা অতিথি: নিরবতার প্রচণ্ড ক্ষমতা

Image
  তন্ময়া সিরিজ অচেনা অতিথি: নিরবতার প্রচণ্ড ক্ষমতা রাত গভীর। তন্ময়া তার ডায়েরির পাতায় শেষ লাইনগুলো লিখছিল। চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা। হঠাৎ, দরজায় একটা টোকা পড়ল। চমকে উঠে সে চোখ তুলে তাকাল। এই সময়ে? এত রাতে কে? তন্ময়া দরজা খুলতেই সামনের মানুষটাকে দেখে থমকে গেল। অনিক। সেই অনিক, যে একসময় তার জীবনের সমস্ত সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিল। যে হারিয়ে গিয়েছিল তার জীবন থেকে কোনো এক ভোরে। অনিক কিছুক্ষণ তন্ময়ার দিকে চেয়ে থেকে বলল, "তুমি কি এখনো নিরবতার ক্ষমতা অনুভব করতে পারো, তন্ময়া?" তন্ময়া কোনো কথা বলল না। তার চোখে-মুখে হাজারো প্রশ্ন। অনিক ভেতরে এসে বসে বলল, "আরোহী কেমন আছে?" তন্ময়া এবার ধীর কণ্ঠে বলল, "আরোহী? সে তো তোমারই জীবনের অংশ ছিল। এখন তাকে ভুলেই গেছো?"  অনিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "তাকে কি করে ভুলে যাই,  সেই তো আমাদের বন্ধন।" তোমাকে আর আরোহী ছাড়া সব ভুলতে চাই। "সব ভুলতে চাই, তন্ময়া। নিজেদের জন্য বাঁচতে চাই। এই ভাই-বোন, সম্পর্কের সাপলুডু খেলায় আমরা ক্লান্ত। আমাদের জীবন আমাদের, তাদের জীবন তাদের।" তন্ময়া স্থির হয়ে রইল। তার মনে পুরোনো ...

গল্প: তোমাকে আমার মত করে দেখতে চাই

Image
 তোমাকে আমার মত করে দেখতে চাই তন্ময়া জানালার পাশে বসে ছিল। চাঁদের আলো তার মুখে পড়ছিল, কিন্তু তার চোখে ছিল অন্ধকারের ছায়া। অনিকের কথাগুলো তার মনে বারবার ফিরে আসছিল: "আমি চাই তোমাকে সবাই আমার মতো করে দেখুক। আমাকে যেমন সবাই মাথায় করে রাখে, তেমনি তোমাকেও। আমার বউকে সবাই সম্মান করুক। আমাদের সারা জীবন একসাথে থাকতে হবে। তাই আমি চেয়েছি তোমাকে আমার মতো করে সাজিয়ে নিতে।" অনিকের এই চাওয়াটা ভালোবাসা, না কি তার ইচ্ছা নিজের মতো করে তন্ময়াকে তৈরি করার? তন্ময়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। "অনিক চায় আমাকে তার মতো করে বানাতে। কিন্তু আমার নিজস্বতা? আমার ইচ্ছা, আমার মতামত?" অনিকের দিক থেকে দেখলে, তার চাওয়া ছিল একটা ভালোবাসার প্রকাশ। সে চেয়েছিল তন্ময়া হোক তার জীবনের প্রতিচ্ছবি, যেন তন্ময়ার সম্মান, মর্যাদা, আর সুখ তার নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু তন্ময়ার চোখে, এই চাওয়াটা যেন তার নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার শামিল। সে মনে মনে বলল, "ভালোবাসা কি নিজের ইচ্ছা অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া? নাকি একে অপরকে বুঝে, একে অপরকে জায়গা দেওয়া?" অনিক অন্যদিকে বসে ছিল একা, তার মনে চলছিল অন্য রকমের চিন্তা। ...

গল্প: তন্ময়া, এক অসমাপ্ত অধ্যায়

Image
 তন্ময়া, এক অসমাপ্ত অধ্যায় রাত গভীর। অনিকের হাতের কলম থেমে থেমে চলছে। প্রতিটি শব্দ যেন তার হৃদয় থেকে উঠে আসছে, আর কাগজে ছাপা পড়ছে তার মনের সমস্ত ব্যথা। কাগজের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্ত থামে অনিক। তার চোখে ভেসে ওঠে তন্ময়ার মুখ। সেই অগণিত স্মৃতি—ভালোবেসে কাছে টানা, আর তারপরও দূরে সরে যাওয়া। "তন্ময়া," অনিক ফিসফিস করে বলে, যেন সে কাগজের উপর তার অনুভূতিকে প্রার্থনা করছে। "আমার পরিবারের প্রত্যেকে তোমাকে যে কষ্ট বা অপমান করেছে, সেই প্রতিটি কষ্ট আমার বুকে গেঁথে আছে। আমি তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে, আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছি, তোমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।আমার প্রতিবলের ধরনটা হয়তো ভিন্ন। আমার ভাই, বোন, এমনকি তাদের ভয়ংকর স্ত্রীদের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি তোমার হয়ে কথা বলেছি। তাদের ভুলের জন্য তোমার প্রতি অন্যায় আচরণ মেনে নিতে পারিনি। তন্ময়া, আমি এখনও তাদের বোঝাই। তারা কতটা ভুল করেছে, আমি তাদের দেখিয়ে দেই।" অনিক জানে, তন্ময়া এসব বুঝতে পারে না।  কিন্তু তবুও, অনিক কখনো তন্ময়ার জন্য নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। সে ভাবে, তার ভাই বোন যেভাবে তন্ময়াকে অপমান করেছে, সেই কষ্টগুলো যেন তার নিজের হ...

গল্প: আরোহীর জন্য চিঠি

Image
 গল্প: আরোহীর জন্য চিঠি বাবার শেষ চিঠি সন্ধ্যার আলো ম্লান হতে শুরু করেছে। আরোহী ঘরের কোণে ছোট্ট চেয়ারে বসে আছে। তার চোখে জল, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু শব্দ বের হচ্ছে না। তার সামনে টেবিলে একটি চিঠি রাখা। তন্ময়া রান্নাঘরে ব্যস্ত, কিন্তু তার মনও আজ ভারী। আরোহী সেই চিঠি বারবার হাতে নেয়, খোলে, পড়ে, কিন্তু কিছুতেই বাবার কথা মনে করে কান্না থামাতে পারে না। চিঠিতে লেখা: > আমার প্রিয় আরোহী, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। আমি জানি, তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ। কিন্তু, আম্মু, তুমি শক্ত হতে হবে। পৃথিবীটা অনেক কঠিন জায়গা। এখানে যারা নরম, তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই। আমি তোমার মার কাছে নরম হয়ে দেখেছি, কী পেয়েছি? অপমান, অবহেলা। আরোহী, আমি চাই না তুমি আমার মতো কষ্ট পাও। তুমি শক্ত হও। তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়। কিন্তু আম্মু, বাবারা কাঁদে না, বাবারা সন্তানদের কাঁদতে দেখে নিজেকে শেষ করে ফেলে। আমি চেয়েছিলাম তোমার জন্য সবকিছু ঠিক করে দিতে, কিন্তু সেটা আর সম্ভব হলো না। তাই আমি তোমাকে তোমার সবচেয়ে আপন মানুষ, তোমার মায়ের কাছে রেখে এসেছি। তোমার মা হয়তো আমার অনেক দোষ-ত্রুটি বলবে। তুমি শুনবে। কিন্তু মনে রে...

গল্প: তুমিও তেমনটা ভেবে নিও

Image
 গল্প: তুমিও তেমনটা ভেবে নিও রাতের গভীর নিস্তব্ধতায় আরোহী মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তার ছোট্ট হৃদয় বোঝে, কিছু একটা ঠিক নেই। ঘুম আসতে চায় না। কান্না আটকে রাখার জন্য সে মায়ের আঁচল মুঠো করে ধরে থাকে। তন্ময়া বারবার তার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু নিজেও জানে, এই শান্তি সাময়িক। অন্যদিকে, অনিকের বুকের ভেতর চাপা কান্নার বন্যা বইছে। ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকে। স্ক্রিনে বারবার তন্ময়ার নাম ভেসে ওঠে। কিন্তু সে জানে, তন্ময়া থেকে আর কিছু আশা করা বৃথা। তন্ময়ার ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ—আরোহীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তন্ময়ার কোনো সচেতনতা নেই। অনিক ফিসফিস করে বলে, “আম্মু, তোমার কান্না আমার কান্নার সাথে মিশে কি হবে? যে কান্নায় সব বদলাতে পারে, তার মনেই কোনো আক্ষেপ নেই। কোনো সংশোধনের ইচ্ছা নেই। তুমি মাফ করে দাও। আমি আর ফিরবো না। অনেক মানুষ জন্ম থেকেই মা-বাবা হারা হয়। কেউ বাবা-মা থেকেও পায় না। আরোহীও তেমন ভাবুক।” আরোহীর নিঃসঙ্গতা পরের দিন সকালে, আরোহী মায়ের পাশে বসে ভাত খেতে চায় না। ছোট্ট মেয়েটার চোখে ঘুমহীন রাতের ক্লান্তি। “মা, বাবা কবে আসবে?” তন্ময়া চুপ থাকে। ছোট্ট আরোহ...

গল্প : রাগ

Image
 বৃহস্পতিবারের রাগ তন্ময়ার চোখে বৃহস্পতিবার যেনো এক অভিশপ্ত দিন। ছোটবেলা থেকেই এই দিনটি তার জীবনে নানান বিপর্যয় এনে দিয়েছে। একবার স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে তার প্রিয় স্কার্ফটি হারিয়েছিল।  সময়ের সাথে তন্ময়া বুঝে গিয়েছিল, বৃহস্পতিবার আর তার জন্য শুভ নয়। কিন্তু আমার জন্য? বৃহস্পতিবার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের দিন। এই দিনেই তো আমি পৃথিবীতে এসেছি, এবং এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছে আমার মেয়ে আরোহী। তন্ময়ার প্রতি আমার ভালোবাসা গভীর, আরোহীর প্রতি তো আরও গভীর। কিন্তু তন্ময়ার ওই বৃহস্পতিবার-বিদ্বেষ মাঝে মাঝে আমাকে ভাবনায় ফেলে দেয়। আজও ছিল এক বৃহস্পতিবার। আমি আর আরোহী তন্ময়ার জন্য একটি চমক প্রস্তুত করেছিলাম। আরোহীর ছোট হাত দিয়ে আঁকা একটি কার্ড আর আমার কেনা একটি সুন্দর শাড়ি—এসব নিয়ে আমরা তার সামনে গেলাম। তন্ময়া তখনও মুখ গোমড়া করে বসে ছিল। আমি বললাম, "তোমার জন্য বৃহস্পতিবারকে অন্যরকম করে তুলতে চাই, তন্ময়া।" আরোহী খিলখিলিয়ে হেসে কার্ডটা তুলে ধরল। তাতে লেখা ছিল, "আমরা তোমাকে ভালোবাসি, মা।" তন্ময়া কিছুক্ষণ চুপ করে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে তার চোখে পানি চলে...

গল্প : শূন্যতার শেষ প্রান্তে

Image
 গল্প : শূন্যতার শেষ প্রান্তে অনিকের ঘরে এখন গভীর নীরবতা। প্রতিদিন কাজ থেকে ফিরে ফোনটা হাতে তুলে নেয় সে। মনে মনে ভাবে, তন্ময়া হয়তো কোনোদিন মেসেজ করবে। হয়তো একটা “ক্ষমা চাই” বা “আরোহীর কথা ভেবে ফিরে আসো”—এই শব্দগুলোই তার সমস্ত যন্ত্রণা মুছে দেবে। অনিকের মনোজগৎ ঘুরে ফিরে সেই পুরনো স্মৃতিগুলোতে আটকে থাকে। আরোহীর ছোট ছোট পায়ের দৌড়, তার বাবার গলা জড়িয়ে ধরার মুহূর্তগুলো যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়। সে ভাবে, তন্ময়া একদিন বোঝার চেষ্টা করবে। হয়তো সেদিন তারা একসঙ্গে আবার শুরু করবে। একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন একটি ছোট্ট দুই রুমের বাসা। সেখানে থাকবে অনিক, তন্ময়া, আরোহী। খুব সাধারণ জীবন হবে, কিন্তু ভালোবাসায় ভরা। হয়তো তন্ময়া আর অহংকার করবে না। হয়তো সে বুঝবে, অনিক তাকে কতটা ভালোবেসেছে। এই চিন্তা অনিককে কিছু সময়ের জন্য শান্তি দেয়। কিন্তু তার স্বপ্ন প্রতিদিনই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তন্ময়ার নীরবতায়। তন্ময়া এখনো তার আত্মীয়দের কথার ওপর নির্ভরশীল। সেই আত্মীয়রা, যারা অনিক আর তন্ময়ার সম্পর্ক ভাঙার নেপথ্যে ছিল। বোনেরা বারবার অনিককে বলে, “ভাই, তন্ময়া ভুল বুঝেছে। তুমি একটু আগ বাড়াও।” কিন্তু অনিক জানে, তন্ময়ার অহংকার আর...

গল্প: শেষ না হওয়া শিকল

Image
 গল্প: শেষ না হওয়া শিকল আরোহির কান্না আরোহি জানে না কেন তার বাবা আর আসেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দরজার দিকে তাকায়, বাবার ডাক শোনার আশায়। প্রতিদিন রাতের খাবার খাওয়ার সময় সে বাবার জন্য প্লেটে একপাশে খাবার তুলে রাখে। “মা, বাবা কবে আসবে?” তন্ময়া চুপ করে থাকে। তার মুখে কোনো উত্তর নেই। প্রথমে সে মেয়েকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। “বাবা কাজে গেছে। তোমার জন্য নতুন পুতুল নিয়ে আসবে।” কিন্তু দিন পেরিয়ে সপ্তাহ গড়িয়েছে। আরোহি বুঝে গেছে, বাবার ফেরার কথা আর নেই। সে সারাদিন বাবার স্মৃতিতে কাঁদে। খেলনা হাতে বসে বাবার সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে। ঘুমানোর আগে বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, “বাবা, তুমি কেন আসো না? আমি তো খারাপ মেয়ে না। তোমার কথা শুনি সবসময়। তুমি রাগ করেছ?” তন্ময়ার ভ্রান্ত চেষ্টা তন্ময়া বুঝতে পারে, মেয়ের কষ্ট কতটা গভীর। কিন্তু সে জানে, অনিক আর ফিরবে না। অনিকের মনের যে ঘৃণার চিহ্ন সে রেখে গেছে, তার সামনে ক্ষমা কিংবা অনুশোচনার কোনো মূল্য নেই। তন্ময়া প্রতিদিন আরোহিকে ভুলানোর চেষ্টা করে। তার চোখের জল মুছে দিয়ে বলে, “বাবা দূরে আছে, কিন্তু সে তোমাকে খুব ভালোবাসে। তুমি হাসলে, সে আকাশ থেকে ...

কবিতা গুচ্ছ : তোমার আচলে

Image
 কবিতা গুচ্ছ অর্পন রহমান  

কবিতা: বিষ

Image
 কবিতা: বিষ তোমার কথার তিক্ততায়, হারিয়েছে সেই সোনাঝরা দিন। যেখানে প্রেম ছিল, বিশ্বাস ছিল, আজ সেখানে শুধু নীরবতার অন্ধকার। ঝগড়ার শব্দে ঢেকেছে মনের গান, তোমার তীক্ষ্ণ বাক্য বিদ্ধ করেছে প্রাণ। আমি তো চাইনি এই ফাঁকা দূরত্ব, তুমি নিজেই এঁকেছ সেই সীমারেখা। আমি তো বাঁচতে চেয়েছি, তোমার সঙ্গে, তোমার পাশে। কিন্তু তুমি ভালোবেসেছ তিক্ততা, আর আমি বেছে নিয়েছি নীরব বিদায়। তন্ময়া, জানো? আমি সেই মানুষ, যে দরকার হলে সবকিছু ছাড়তে পারে। কিন্তু যেখানে ঘৃণা, অবিশ্বাস, অপমান, সেখানে ফেরার পথ আমি মুছে দিয়েছি। তোমার জন্য একদিন স্বপ্ন ছিল, আজ সেখানে শুধুই স্মৃতির ভগ্নাংশ। তুমি তিক্ততার অমৃত পান করো, আমি দূরত্বের নীলাকাশে উড়ে চলি।

গল্প : ঘৃণা

Image
গল্প : ঘৃণা তন্ময়া আর অনিকের সম্পর্ক একসময় স্বপ্নের মতো ছিল। প্রথম পরিচয়ের দিন অনিকের মিষ্টি হাসি আর তন্ময়ার উচ্ছল কথাগুলো যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল। তারা দুজনেই ভেবেছিল, এই ভালোবাসা কখনো মলিন হবে না। কিন্তু জীবন তো আর সবসময় স্বপ্নের মতো চলে না। অধিকার আর অভিযোগ বিয়ের পরদিন থেকেই তন্ময়ার মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখা দিল। তার কথাগুলো হয়ে উঠল তীক্ষ্ণ, অভিযোগে ভরা। ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। একসময় যেসব কথা হাসির কারণ হতো, সেগুলো এখন কটূক্তি হয়ে ফিরে আসতে লাগল। “তুমি কিছুই ঠিকমতো করতে পারো না,” তন্ময়া প্রায়ই বলত। অনিক চুপ করে থাকত। সে ভাবত, হয়তো তন্ময়া সময়ের সঙ্গে বদলে যাবে। কিন্তু বদল হলো না। সে ভেবেছিল, তন্ময়ার জন্য সব কিছু করবে। কিন্তু তন্ময়া শুধু অপমানই দিয়েছে। আজ তার জীবনের শূন্যতায় ঘৃণার বীজ জন্ম নিয়েছে। তন্ময়া হয়তো বুঝতে পারেনি, তার প্রতিটি কথা অনিকের মনে একধরনের বিষ ছড়াচ্ছে। অনিক চুপ করে থাকতে থাকতে একসময় নিজের ভেতরেই দূরত্ব তৈরি করে ফেলল। দিনের পর দিন তন্ময়ার কথায় একটা অদ্ভুত তিক্ততা জমতে লাগল। ছোটখাটো ভুলগুলো বড় করে দেখা, সবকিছুতে খুঁত খোঁজা, এমনকি অনিকের ভালোবাসার প্রকাশকেও এক...