তন্ময়া সিরিজ গল্প: অচেনা অতিথি ২য় পর্ব


তন্ময়া সিরিজ

 গল্প: অচেনা অতিথি

     ২য় পর্ব





তন্ময়া ঠান্ডা মাথায় বসে ছিল। বাইরে থেকে তাকে নিরীহ ও নির্ভীক মনে হলেও, তার ভেতরে এক বিস্ময়কর শক্তি সক্রিয় হতে শুরু করেছে।


অফিসারকে দেখে তার মনে পড়ল, কত দিন আগের কথা। পুরনো এক গুরু বলেছিল,

"তোমার মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে, যা একদিন তোমাকে রক্ষা করবে। কিন্তু মনে রেখো, এই শক্তি কখনো অহংকারের জন্য নয়। শুধু সঠিক সময়ে এটি ব্যবহার করো।"


তন্ময়া বুঝতে পারল, সময় এসেছে। নিজের ভেতরের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।


মায়ার জাল


অফিসার আবার প্রশ্ন করলেন,

"আপনার শেষ টিকটক ভিডিওতে অদ্ভুত কিছু ছন্দময় শব্দ ছিল। এগুলো কোথা থেকে শিখেছেন?"

তন্ময়া শান্ত গলায় বলল,

"ওগুলো স্রেফ রিলের জন্য বানানো। কোনো গুপ্ত বার্তা নয়।"

অফিসার এবার গম্ভীর হয়ে বললেন,

"আপনার এই ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট নই। সত্যটা বলুন।"


তন্ময়া একদৃষ্টিতে অফিসারের দিকে তাকাল। তার চোখ ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগল।

"আপনারা যখন সঠিক প্রমাণ পাবেন, তখন আমার কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হবে।"

তার কণ্ঠ যেন মন্ত্রমুগ্ধ করে দিল। অফিসারের মুখে আর কোনো কথা আসছিল না।


ছদ্মবেশ ভাঙা


একটু পর দরজায় একজন মহিলা ঢুকল। তন্ময়া তাকে দেখেই চিনতে পারল—এ মহিলা মোটেও সাধারণ নয়। তার চেহারায় একধরনের অস্বাভাবিক শীতলতা।

তন্ময়া বলল,

"তুমি তো আমার জন্য এসেছ, তাই না?"

মহিলার চোখে এক মুহূর্তের চমক।

"তুমি জানলে কীভাবে?"


তন্ময়া মুচকি হেসে বলল,

"তোমরা অনেক দূর থেকে আমাকে ধরতে এসেছ। কিন্তু তুমি হয়তো জানো না, আমি ঠিক কার হাতে প্রশিক্ষিত।"


মহিলা এবার নিজের আসল রূপে ফিরে এল। তার চোখ দুটো গভীর কালো হয়ে গেল। কণ্ঠ কর্কশ হয়ে বলল,

"তুমি জানো না, তুমি কাদের বিরুদ্ধে খেলতে যাচ্ছ।"


তন্ময়া এবার উঠে দাঁড়াল। তার শরীরের চারপাশে অদৃশ্য আলো জ্বলে উঠল।

"আমি জানি। তবে এটা তোমাদের শেষ খেলা।"


শক্তির প্রকাশ


মহিলা তার হাত বাড়িয়ে একটা কালো ধোঁয়া ছুঁড়ল। ধোঁয়া ঘরের ভেতর ছড়িয়ে গেল। কিন্তু তন্ময়া নিজের মন্ত্র আওড়াতে শুরু করল।

"ওম শ্রী কালিকায় নমঃ!"

তার ভেতর থেকে এক প্রবল শক্তি বেরিয়ে এল। কালো ধোঁয়া মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে গেল। মহিলার চেহারায় ভয়।


"তুমি ম্যাজিশিয়ান! এটা সম্ভব নয়!"

তন্ময়া এবার দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

"তোমাদের কালো শক্তি, আমার আলোয় বিলীন হবে। এবার তোমাদের আসল চেহারা সবার সামনে আসবে।"


আসল ষড়যন্ত্র


ঠিক তখন বাইরে থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ। তন্ময়ার বন্ধুদের একটা দল সেখানে ঢুকে পড়ল।

"তন্ময়া, আমরা তোমার প্রোফাইলের হ্যাকিং তথ্য উদ্ধার করেছি। যারা এটা করিয়েছে, তারা এই মহিলা এবং তার দলের অংশ। তারা তোমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে।"


তন্ময়া বলল,

"আমি জানি। তবে এখন আমাদের কাজ ওদের মুখোশ খুলে ফেলা।"

তার একটিমাত্র মন্ত্রেই মহিলা এবং তার সঙ্গী অদৃশ্য হয়ে গেল। কিন্তু তন্ময়া জানত, এ যুদ্ধে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হলে তাকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।



 তন্ময়ার পরিচয়




তন্ময়া যে একজন ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান, তা শুধু তার গুরুর কয়েকজন শিষ্য জানে। কিন্তু এর আড়ালে তার আসল পরিচয় আরও গোপন—সে এবং তার দল ব্ল্যাক ওয়েবে কাজ করে। সাইবার ক্রাইম, ভাড়াটে খুন, তথ্য পাচার—এগুলোই তাদের জীবিকা।


তন্ময়া জানে, আজ যারা তাকে ধরতে এসেছে, তারা আসলে সরকারি সংস্থার নয়। তারা এক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সদস্য। এই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে তাদের এলিমিনেট করার চেষ্টা করছে।


ওয়াশরুমের পাঠানো বার্তা


রিজেন্সি প্যালেসে পাঠানো বার্তা তন্ময়ার দলের কাছে পৌঁছে গেছে। তারা জানে, তন্ময়া বিপদে। দলের লিডার, সাম্য, দ্রুত তার সিস্টেম চালু করল।


“বার্তা অনুযায়ী লোকেশন ঢাকার পশ্চিম প্রান্তে। আমাদের স্ট্রাইক টিম পাঠাতে হবে।”

আরেকজন বলল,

“দ্রুত পাঠাও। তন্ময়া একা ওদের থামাতে পারবে না। ওকে বাঁচাতে হবে।”


ধোঁয়া আর ছায়ার খেলা


তন্ময়া এদিকে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে শুরু করল। তার টেবিলের নিচে লুকানো একটা ছোট্ট ব্লেড ছিল। সে খুব সতর্কভাবে সেটা তুলে নিল।

“তোমরা যে আমাকে নিতে চাও, তার মানে আমার কাজ তোমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এটা মনে রেখো, আমি সহজে হারার মেয়ে নই।”


মহিলা আরেকবার সামনে এসে বলল,

“তোমার ব্ল্যাক ওয়েবের কাজ আমরা জানি। তুমি অনেকগুলো হিট অর্ডার নিয়েছ, যা আমাদের বিরুদ্ধে গেছে। এবার তোমাকে শেষ করার সময়।”


তন্ময়া মৃদু হেসে বলল,

“শেষ করার কথা তো তোমরাই বলছ। কিন্তু জানো, কাকে শেষ করতে এসেছ?”


এরপরই ঘরের আলো হঠাৎ দপ করে নিভে গেল। চারপাশে কালো ধোঁয়া। তন্ময়া তার মন্ত্র পড়তে শুরু করল।

"ওম মহাকালায় নমঃ!"

ধোঁয়ার ভেতর থেকে একটা অদ্ভুত আওয়াজ শোনা গেল। মহিলা এবং তার সঙ্গীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল।


দল পৌঁছে গেল


ঠিক তখনই দরজা ভেঙে সাম্য আর তার দলের লোকেরা ঢুকে পড়ল। তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র।

“তন্ময়া, আমরা এসে গেছি!” সাম্য চিৎকার করে বলল।


তন্ময়া ধীরে ধীরে ধোঁয়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো।

“ওরা আমাদের শেষ করতে এসেছিল। এখন আমরা দেখাব, কীভাবে শেষ করতে হয়।”


পাল্টা আক্রমণ


সাম্যর দল দ্রুত প্রতিপক্ষের লোকগুলোকে ঘিরে ফেলল। মহিলাটি চিৎকার করে বলল,

“তোমরা জানো না, আমাদের দলের পেছনে কে আছে!”


তন্ময়া ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,

“তোমাদের দলের পেছনে যেই থাকুক, সেটা নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আগে নিজেরা বাঁচো।”


এক মুহূর্তের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলো। সাম্যর দল আধুনিক অস্ত্র আর তন্ময়ার ম্যাজিক একসাথে ব্যবহার করল। প্রতিপক্ষকে মুহূর্তেই দমন করা হলো। /p>


নতুন বিপদের ইঙ্গিত


তন্ময়া বলল,

“এটা শুধু শুরু। ব্ল্যাক ওয়েবের গভীরে যারা আছে, তাদের নাম বের করতে হবে। ওরা আমাদের শেষ করার জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।”


সাম্য তার কাঁধে হাত রেখে বলল,

“তুমি ভেবো না। আমরা সবকিছু সামলাব। এবার শুধু নতুন মিশনের জন্য প্রস্তুত হও।”


তন্ময়া জানত, তার জীবন আর কখনো স্বাভাবিক হবে না। তবে সে এই বিপজ্জনক জীবনের জন্যই প্রস্তুত।

সে জানে, পরবর্তী মিশন তার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ বয়ে আনবে।


(চলবে…)


Comments

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই