Posts

Showing posts from December 19, 2024

গল্প: তুমিও তেমনটা ভেবে নিও

Image
 গল্প: তুমিও তেমনটা ভেবে নিও রাতের গভীর নিস্তব্ধতায় আরোহী মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তার ছোট্ট হৃদয় বোঝে, কিছু একটা ঠিক নেই। ঘুম আসতে চায় না। কান্না আটকে রাখার জন্য সে মায়ের আঁচল মুঠো করে ধরে থাকে। তন্ময়া বারবার তার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু নিজেও জানে, এই শান্তি সাময়িক। অন্যদিকে, অনিকের বুকের ভেতর চাপা কান্নার বন্যা বইছে। ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকে। স্ক্রিনে বারবার তন্ময়ার নাম ভেসে ওঠে। কিন্তু সে জানে, তন্ময়া থেকে আর কিছু আশা করা বৃথা। তন্ময়ার ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ—আরোহীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তন্ময়ার কোনো সচেতনতা নেই। অনিক ফিসফিস করে বলে, “আম্মু, তোমার কান্না আমার কান্নার সাথে মিশে কি হবে? যে কান্নায় সব বদলাতে পারে, তার মনেই কোনো আক্ষেপ নেই। কোনো সংশোধনের ইচ্ছা নেই। তুমি মাফ করে দাও। আমি আর ফিরবো না। অনেক মানুষ জন্ম থেকেই মা-বাবা হারা হয়। কেউ বাবা-মা থেকেও পায় না। আরোহীও তেমন ভাবুক।” আরোহীর নিঃসঙ্গতা পরের দিন সকালে, আরোহী মায়ের পাশে বসে ভাত খেতে চায় না। ছোট্ট মেয়েটার চোখে ঘুমহীন রাতের ক্লান্তি। “মা, বাবা কবে আসবে?” তন্ময়া চুপ থাকে। ছোট্ট আরোহ...

গল্প : রাগ

Image
 বৃহস্পতিবারের রাগ তন্ময়ার চোখে বৃহস্পতিবার যেনো এক অভিশপ্ত দিন। ছোটবেলা থেকেই এই দিনটি তার জীবনে নানান বিপর্যয় এনে দিয়েছে। একবার স্কুলের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে তার প্রিয় স্কার্ফটি হারিয়েছিল।  সময়ের সাথে তন্ময়া বুঝে গিয়েছিল, বৃহস্পতিবার আর তার জন্য শুভ নয়। কিন্তু আমার জন্য? বৃহস্পতিবার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখের দিন। এই দিনেই তো আমি পৃথিবীতে এসেছি, এবং এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছে আমার মেয়ে আরোহী। তন্ময়ার প্রতি আমার ভালোবাসা গভীর, আরোহীর প্রতি তো আরও গভীর। কিন্তু তন্ময়ার ওই বৃহস্পতিবার-বিদ্বেষ মাঝে মাঝে আমাকে ভাবনায় ফেলে দেয়। আজও ছিল এক বৃহস্পতিবার। আমি আর আরোহী তন্ময়ার জন্য একটি চমক প্রস্তুত করেছিলাম। আরোহীর ছোট হাত দিয়ে আঁকা একটি কার্ড আর আমার কেনা একটি সুন্দর শাড়ি—এসব নিয়ে আমরা তার সামনে গেলাম। তন্ময়া তখনও মুখ গোমড়া করে বসে ছিল। আমি বললাম, "তোমার জন্য বৃহস্পতিবারকে অন্যরকম করে তুলতে চাই, তন্ময়া।" আরোহী খিলখিলিয়ে হেসে কার্ডটা তুলে ধরল। তাতে লেখা ছিল, "আমরা তোমাকে ভালোবাসি, মা।" তন্ময়া কিছুক্ষণ চুপ করে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে তার চোখে পানি চলে...

গল্প : শূন্যতার শেষ প্রান্তে

Image
 গল্প : শূন্যতার শেষ প্রান্তে অনিকের ঘরে এখন গভীর নীরবতা। প্রতিদিন কাজ থেকে ফিরে ফোনটা হাতে তুলে নেয় সে। মনে মনে ভাবে, তন্ময়া হয়তো কোনোদিন মেসেজ করবে। হয়তো একটা “ক্ষমা চাই” বা “আরোহীর কথা ভেবে ফিরে আসো”—এই শব্দগুলোই তার সমস্ত যন্ত্রণা মুছে দেবে। অনিকের মনোজগৎ ঘুরে ফিরে সেই পুরনো স্মৃতিগুলোতে আটকে থাকে। আরোহীর ছোট ছোট পায়ের দৌড়, তার বাবার গলা জড়িয়ে ধরার মুহূর্তগুলো যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়। সে ভাবে, তন্ময়া একদিন বোঝার চেষ্টা করবে। হয়তো সেদিন তারা একসঙ্গে আবার শুরু করবে। একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন একটি ছোট্ট দুই রুমের বাসা। সেখানে থাকবে অনিক, তন্ময়া, আরোহী। খুব সাধারণ জীবন হবে, কিন্তু ভালোবাসায় ভরা। হয়তো তন্ময়া আর অহংকার করবে না। হয়তো সে বুঝবে, অনিক তাকে কতটা ভালোবেসেছে। এই চিন্তা অনিককে কিছু সময়ের জন্য শান্তি দেয়। কিন্তু তার স্বপ্ন প্রতিদিনই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তন্ময়ার নীরবতায়। তন্ময়া এখনো তার আত্মীয়দের কথার ওপর নির্ভরশীল। সেই আত্মীয়রা, যারা অনিক আর তন্ময়ার সম্পর্ক ভাঙার নেপথ্যে ছিল। বোনেরা বারবার অনিককে বলে, “ভাই, তন্ময়া ভুল বুঝেছে। তুমি একটু আগ বাড়াও।” কিন্তু অনিক জানে, তন্ময়ার অহংকার আর...

গল্প: শেষ না হওয়া শিকল

Image
 গল্প: শেষ না হওয়া শিকল আরোহির কান্না আরোহি জানে না কেন তার বাবা আর আসেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দরজার দিকে তাকায়, বাবার ডাক শোনার আশায়। প্রতিদিন রাতের খাবার খাওয়ার সময় সে বাবার জন্য প্লেটে একপাশে খাবার তুলে রাখে। “মা, বাবা কবে আসবে?” তন্ময়া চুপ করে থাকে। তার মুখে কোনো উত্তর নেই। প্রথমে সে মেয়েকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। “বাবা কাজে গেছে। তোমার জন্য নতুন পুতুল নিয়ে আসবে।” কিন্তু দিন পেরিয়ে সপ্তাহ গড়িয়েছে। আরোহি বুঝে গেছে, বাবার ফেরার কথা আর নেই। সে সারাদিন বাবার স্মৃতিতে কাঁদে। খেলনা হাতে বসে বাবার সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করে। ঘুমানোর আগে বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, “বাবা, তুমি কেন আসো না? আমি তো খারাপ মেয়ে না। তোমার কথা শুনি সবসময়। তুমি রাগ করেছ?” তন্ময়ার ভ্রান্ত চেষ্টা তন্ময়া বুঝতে পারে, মেয়ের কষ্ট কতটা গভীর। কিন্তু সে জানে, অনিক আর ফিরবে না। অনিকের মনের যে ঘৃণার চিহ্ন সে রেখে গেছে, তার সামনে ক্ষমা কিংবা অনুশোচনার কোনো মূল্য নেই। তন্ময়া প্রতিদিন আরোহিকে ভুলানোর চেষ্টা করে। তার চোখের জল মুছে দিয়ে বলে, “বাবা দূরে আছে, কিন্তু সে তোমাকে খুব ভালোবাসে। তুমি হাসলে, সে আকাশ থেকে ...