Posts

Showing posts from November 8, 2024

ভুতের গল্প বিলকুরিয়া গ্রামের অভিশপ্ত আত্মা

Image
                     ভুতের গল্প         বিলকুরিয়া গ্রামের অভিশপ্ত আত্মা বিলকুরিয়া গ্রামে পূর্ণিমার রাতগুলো কখনোই স্বাভাবিক নয়। প্রতি পূর্ণিমার রাতে এখানে ঘটে যায় এক অলৌকিক কাণ্ড। এই রাতে দরকার হয় একজন জীবিত মানুষ, যে হবে মৃতদের ক্ষুধার শিকার। কিন্তু এবার গল্পটা একটু অন্যরকম। রফিক সাহেব, শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক, গ্রামের গল্পগাথায় মোটেও বিশ্বাসী নন। তার ছাত্র রিয়াদ হাসানের বাড়ি থেকে মাগুর মাছের ঝোল খাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে গ্রামের দিকে রওনা হন। দিনটা খুব সুন্দরভাবেই শুরু হয়েছিল। রফিক সাহেব সকালে গ্রামের পথে রওনা দেন রিয়াদের আমন্ত্রণে। গ্রামের সবুজ-শ্যামল দৃশ্য দেখে তিনি বিমোহিত হন। পথে রিয়াদের সাথে কথা বলতে বলতে গ্রামের মনোরম পরিবেশে মগ্ন হয়ে যান। রফিক সাহেব বলেন, “তোমাদের গ্রামটা যেন সত্যি একটা শান্তির জায়গা। আর এখানে এসে এতটা ভালো লাগছে যে, মনে হয় কয়েকদিন এখানেই থেকে যাই।” রিয়াদ একটু সশব্দে হাসল, তবে তার হাসির মধ্যে ছিল একরকম চাপা ভাবনা। সে বলল, “স্যার, আমাদের গ্রামে থাকা এত সহজ নয়। প্...

সক্রেটিস ও বউয়ের গল্প

Image
 সক্রেটিস ও বউয়ের গল্প গ্রীষ্মের এক বিকেলে এথেন্সের সরু রাস্তাগুলোতে হেঁটে যাচ্ছিলেন সক্রেটিস। পাশের অলিগলিতে মানুষজন চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। "সারাদিন কথার পাট না ছেঁড়ে যে লোকটা শুধু জ্ঞান দেয়, সেও কিনা দুই বিয়ে করলো!" সক্রেটিস এসব শুনতে পান, কিন্তু তার মুখে একফোঁটা বিরক্তির ছাপ নেই। বরং, তার চোখে যেন গভীর কোনও ভাবনার ছায়া। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি ছিলেন রূপবতী, তবে তার মেজাজ ছিল ভয়ানক। প্রতিদিনের ঘরোয়া ঝগড়াঝাঁটিতে মুখে মুখে লেগে থাকতেন তিনি। "সারাদিন শুধু বসে বসে কথা বলো, আর কিছু করো না!" এমন সব অভিযোগ শুনতে শুনতে, একসময় জ্যানথিপি তার চরম সীমায় পৌঁছান। তিনি ভাবেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিন তাদের ঘরে নিত্য অভাব লেগে থাকবে। এদিকে সক্রেটিসের এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় মির্টো নামের এক মেয়ের সাথে। মির্টো ছিলো শান্ত, তবে দৃঢ়। তার সাথে একটা সহজ সম্পর্ক তৈরি হয় সক্রেটিসের। তারা বুঝতে পারেন, একে অপরের প্রতি তাদের মনের অনুভূতি গভীর। এরপর সক্রেটিস সিদ্ধান্ত নেন, মির্টোকেও বিয়ে করবেন। কিন্তু তিনি জানেন, এই সিদ্ধান্তে জ্যানথিপির প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।...

রহস্য গল্প পাঁচু সর্দারের বাঁশঝাড়

Image
রহস্য গল্প পাঁচু সর্দারের বাঁশঝাড় পাঁচু সর্দারকে এলাকাতে সবাই ভয় পায়। সুঠাম দেহ, সাহস আর অদম্য শক্তির জন্য সে শুধু তার গ্রাম নয়, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামেও পরিচিত। কোনো সমস্যাই তার কাছে বড় নয়, তার মনে হয়, সব সমস্যারই সমাধান সে দিতে পারবে। কিন্তু একদিন তার সাহস এবং শক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রকৃতি যেন নিজেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। বিকেল বেলা, পাঁচু সর্দার হেঁটে যাচ্ছিলো গ্রামের পাশে পুরোনো বাঁশঝাড়ের দিকে। এই বাঁশঝাড়টা গ্রামের লোকজন এড়িয়ে চলে, কারণ তারা জানে এখানে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি বাস করে। কিন্তু পাঁচু এসব কথায় কান দেয় না। "বাঁশঝাড়ে ভূত! হাস্যকর!" বলে সে হাসতে থাকে। হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস তার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, গা ছমছম করা একটা অনুভূতি তাকে আঘাত করে। পাঁচু সর্দার তবু থামে না, সে বাঁশঝাড়ের ভেতরে প্রবেশ করে। হঠাৎ তার সামনে কিছু একটা এসে দাঁড়ায়—অদৃশ্য, অথচ ভয়ানক। পাঁচু প্রথমে বিষয়টাকে মজা ভেবে উড়িয়ে দেয়, কিন্তু অদ্ভুত কণ্ঠের আওয়াজে তার হাসি মিলিয়ে যায়। "তুই এখানে কেন?" গম্ভীর গর্জনের মতো একটা শব্দ শোনা যায়, আর পাঁচুর মনে হয় তার মাথার ওপর বিশাল কিছু ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।...