রহস্য গল্প পাঁচু সর্দারের বাঁশঝাড়

রহস্য গল্প

পাঁচু সর্দারের বাঁশঝাড়





পাঁচু সর্দারকে এলাকাতে সবাই ভয় পায়। সুঠাম দেহ, সাহস আর অদম্য শক্তির জন্য সে শুধু তার গ্রাম নয়, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামেও পরিচিত। কোনো সমস্যাই তার কাছে বড় নয়, তার মনে হয়, সব সমস্যারই সমাধান সে দিতে পারবে। কিন্তু একদিন তার সাহস এবং শক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রকৃতি যেন নিজেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল।


বিকেল বেলা, পাঁচু সর্দার হেঁটে যাচ্ছিলো গ্রামের পাশে পুরোনো বাঁশঝাড়ের দিকে। এই বাঁশঝাড়টা গ্রামের লোকজন এড়িয়ে চলে, কারণ তারা জানে এখানে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি বাস করে। কিন্তু পাঁচু এসব কথায় কান দেয় না। "বাঁশঝাড়ে ভূত! হাস্যকর!" বলে সে হাসতে থাকে। হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস তার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, গা ছমছম করা একটা অনুভূতি তাকে আঘাত করে। পাঁচু সর্দার তবু থামে না, সে বাঁশঝাড়ের ভেতরে প্রবেশ করে।


হঠাৎ তার সামনে কিছু একটা এসে দাঁড়ায়—অদৃশ্য, অথচ ভয়ানক। পাঁচু প্রথমে বিষয়টাকে মজা ভেবে উড়িয়ে দেয়, কিন্তু অদ্ভুত কণ্ঠের আওয়াজে তার হাসি মিলিয়ে যায়। "তুই এখানে কেন?" গম্ভীর গর্জনের মতো একটা শব্দ শোনা যায়, আর পাঁচুর মনে হয় তার মাথার ওপর বিশাল কিছু ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। সে সাহস নিয়ে বলল, "কে আছে এখানে? তুই আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস? আমি পাঁচু সর্দার!" পাঁচুর এই চ্যালেঞ্জ যেনো সেই অদৃশ্য শক্তিকে আরো রাগিয়ে দিল।


সেই রাতের পর থেকে পাঁচুর উপর একের পর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ঘটতে থাকে। প্রথমে একটা বাঘের রূপে আসে সেই শক্তি, যে পাঁচুর চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। পাঁচু প্রথমে সাহস করে পাল্টা আঘাত করতে চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু বাঘটা তার থেকে এত দ্রুত পালিয়ে যায়, যেন সে কুয়াশার মধ্যে মিশে যাচ্ছে। পাঁচুর শক্তি আর সাহস ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে। কিছুদিন পর, সেই শক্তি পাঁচুর সামনে বিশাল এক দানবের রূপে আবির্ভূত হয়, বিশাল আকৃতির লাল চোখ, কালো শরীর—একটা নিঃশ্বাসেই যেন পুরো এলাকাকে ভেঙে ফেলতে পারবে।


Comments

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই