সক্রেটিস ও বউয়ের গল্প

 সক্রেটিস ও বউয়ের গল্প




গ্রীষ্মের এক বিকেলে এথেন্সের সরু রাস্তাগুলোতে হেঁটে যাচ্ছিলেন সক্রেটিস। পাশের অলিগলিতে মানুষজন চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। "সারাদিন কথার পাট না ছেঁড়ে যে লোকটা শুধু জ্ঞান দেয়, সেও কিনা দুই বিয়ে করলো!" সক্রেটিস এসব শুনতে পান, কিন্তু তার মুখে একফোঁটা বিরক্তির ছাপ নেই। বরং, তার চোখে যেন গভীর কোনও ভাবনার ছায়া।



প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি ছিলেন রূপবতী, তবে তার মেজাজ ছিল ভয়ানক। প্রতিদিনের ঘরোয়া ঝগড়াঝাঁটিতে মুখে মুখে লেগে থাকতেন তিনি। "সারাদিন শুধু বসে বসে কথা বলো, আর কিছু করো না!" এমন সব অভিযোগ শুনতে শুনতে, একসময় জ্যানথিপি তার চরম সীমায় পৌঁছান। তিনি ভাবেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিন তাদের ঘরে নিত্য অভাব লেগে থাকবে।


এদিকে সক্রেটিসের এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় মির্টো নামের এক মেয়ের সাথে। মির্টো ছিলো শান্ত, তবে দৃঢ়। তার সাথে একটা সহজ সম্পর্ক তৈরি হয় সক্রেটিসের। তারা বুঝতে পারেন, একে অপরের প্রতি তাদের মনের অনুভূতি গভীর। এরপর সক্রেটিস সিদ্ধান্ত নেন, মির্টোকেও বিয়ে করবেন। কিন্তু তিনি জানেন, এই সিদ্ধান্তে জ্যানথিপির প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।


একদিন রাতের বেলা ঘরে খাবার নেই। তিন সন্তান ক্ষুধার যন্ত্রণায় কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে গেছে। সক্রেটিস বসে আছেন ধ্যানে মগ্ন হয়ে। জ্যানথিপি গৃহস্থালির কাজ সেরে এসে দেখতে পান, স্বামী বসে আছেন যেন দুনিয়ার কোনো কিছুতেই তার আগ্রহ নেই। জ্যানথিপির মনের রাগ তখন উথলে ওঠে। তিনি শুরু করেন তীব্র বাক্যবাণ।


সক্রেটিস ধীর স্থিরভাবে উঠলেন, বাইরে গিয়ে চাঁদের আলোর নিচে বসে শুরু করলেন বই পড়া। কিন্তু জ্যানথিপি সেই দৃশ্য দেখে আরও রেগে যান। তিনি ঘরের এক কোণে রাখা জমানো ময়লাপানির গামলাটি নিয়ে এসে ঢেলে দেন সক্রেটিসের উপর। ভিজে একাকার হয়ে সক্রেটিস তখন হাসলেন, বললেন, “এতো গুরুগম্ভীর মেঘের গর্জনের পরে এক পশলা বৃষ্টি না হলে কেমনে শোভা পায়?”

এই ঘটনার পর সক্রেটিস তার সহজ সরল জীবনযাপনের মধ্যেই নিজের সুখ খুঁজে নিতে থাকেন। তার কাছে সুখ ছিলো না কোনো বিলাসবহুল জীবনের চাহিদা, বরং মনের মুক্তি, জ্ঞানের সন্ধান।



একদিন তার এক শিষ্য তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “গুরু, সুখের সুযোগ ত্যাগ করে এমন কষ্টের জীবন কেন বেছে নিলেন?”

সক্রেটিস উত্তর দিলেন, “লোভের কুকুরগুলো যেন বুঝে, সত্য জ্ঞান ও স্বাধীনতা এমন এক সুখ, যা কেবল কষ্ট ও কৃচ্ছ্রতার বিনিময়ে পাওয়া যায়।”

এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে একদিন বলে উঠতে সাহায্য করে, “যদি তুমি ভালো বউ পাও, তাহলে তুমি সুখী হবে, আর না পেলে তুমি দার্শনিক হবে।”




Comments

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই