গল্প : ঘৃণা
গল্প : ঘৃণা
তন্ময়া আর অনিকের সম্পর্ক একসময় স্বপ্নের মতো ছিল। প্রথম পরিচয়ের দিন অনিকের মিষ্টি হাসি আর তন্ময়ার উচ্ছল কথাগুলো যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল। তারা দুজনেই ভেবেছিল, এই ভালোবাসা কখনো মলিন হবে না। কিন্তু জীবন তো আর সবসময় স্বপ্নের মতো চলে না।
অধিকার আর অভিযোগ
বিয়ের পরদিন থেকেই তন্ময়ার মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখা দিল। তার কথাগুলো হয়ে উঠল তীক্ষ্ণ, অভিযোগে ভরা। ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। একসময় যেসব কথা হাসির কারণ হতো, সেগুলো এখন কটূক্তি হয়ে ফিরে আসতে লাগল।
“তুমি কিছুই ঠিকমতো করতে পারো না,” তন্ময়া প্রায়ই বলত।
অনিক চুপ করে থাকত। সে ভাবত, হয়তো তন্ময়া সময়ের সঙ্গে বদলে যাবে। কিন্তু বদল হলো না।
সে ভেবেছিল, তন্ময়ার জন্য সব কিছু করবে। কিন্তু তন্ময়া শুধু অপমানই দিয়েছে। আজ তার জীবনের শূন্যতায় ঘৃণার বীজ জন্ম নিয়েছে।
তন্ময়া হয়তো বুঝতে পারেনি, তার প্রতিটি কথা অনিকের মনে একধরনের বিষ ছড়াচ্ছে। অনিক চুপ করে থাকতে থাকতে একসময় নিজের ভেতরেই দূরত্ব তৈরি করে ফেলল।
দিনের পর দিন তন্ময়ার কথায় একটা অদ্ভুত তিক্ততা জমতে লাগল। ছোটখাটো ভুলগুলো বড় করে দেখা, সবকিছুতে খুঁত খোঁজা, এমনকি অনিকের ভালোবাসার প্রকাশকেও একসময় তন্ময়া অবজ্ঞা করতে শুরু করল।
“তুমি কি সত্যিই আমাকে বোঝো? আমার জীবনের প্রয়োজনগুলো কি তোমার চোখে পড়ে?”
অনিক বলার চেষ্টা করত, “তোমার জন্যই তো সব করি। তোমার জন্যই তো বাঁচি।”
কিন্তু তন্ময়া কখনো শুনত না।
তিক্ততা আর ঘৃণা বিষাদের শুরু
তন্ময়া আবার বলল, "আমি জানি তুমি আজকাল আর কিছুতেই মন দিচ্ছ না। কিন্তু তোমার ছেলের কথা ভেবে অন্তত আমাদের এই সম্পর্ক চালিয়ে যাও।"
“তুমি এমন কেন? তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না ভেবেছিলাম। এখন তুমিই আমার জীবনের সবথেকে বড় যন্ত্রনা”
তন্ময়ার এই চিৎকারে অনিক স্তব্ধ হয়ে গেল। এই প্রথমবার সে অনুভব করল, তন্ময়ার কথাগুলো শুধু তিক্ত নয়, এতে তার প্রতি ঘৃণাও আছে।
একদিন, তন্ময়া কথা বলার মাঝেই চিৎকার করে উঠল।
“তুমি একটা আধপাগল! কেউ তোমাকে সহ্য করতে পারে না। তোমার পরিবার তোমার ভাই-বোন কারো কাছেই তোমার মূল্য নেই। তোমার মতো মানুষের সঙ্গে বিয়ে হওয়াটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।”
অনিকের মনে ধীরে ধীরে জমতে লাগল তন্ময়ার প্রতি ঘৃণার অনুভূতি। সে বারবার ভাবত,
“তন্ময়া কি কখনো আমাকে ভালোবাসেনি? নাকি তার কাছে ভালোবাসার অর্থ শুধুই দম্ভ আর ক্ষমতার প্রদর্শন?”
বিয়ের পর থেকে তন্ময়া যেন প্রতিদিন তার আত্মসম্মানকে আঘাত করত।
“তুমি একজন অযোগ্য মানুষ, অনিক। তোমার কারণে আমি আজ এ অবস্থায়।”
এই কথাগুলো এখন অনিকের স্মৃতিতে দগ্ধ হয়ে আছে।
তন্ময়ার মিথ্যা সন্দেহ, প্রতিনিয়ত ছোটোখাটো বিষয়ে গালাগালি, এমনকি তার ভাইবোনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার—সবকিছুই অনিক সহ্য করেছিল। কিন্তু তন্ময়া কখনো বুঝতে চায়নি, তারও ভুল ছিল। একদিন তন্ময়াদের বাড়িতে বসে রাগের মাথায় অনিকের কলার ধরে টান দিয়েছিল, বাড়ির সামনে সবাই দেখেছিল।
অনিকের মনে পড়ল সেই রাত, যেদিন তন্ময়া তার বুকে লাথি মেরে ছিল। সেদিনের পর থেকে অনিক তন্ময়াকে কখনো গায়ে হাত তোলেনি। তন্ময়ার সম্মানের কথা ভেবে নিজের অপমান গিলে ফেলত। কিন্তু তন্ময়া তা বোঝেনি।
একসময় অনিক স্থির করল, সে আর তন্ময়ার সঙ্গে থাকবে না। তার ভালোবাসা শেষ হয়ে গেছে নয়, বরং তন্ময়া তা বিষাক্ত করে তুলেছে।
তন্ময়া ঘরের অন্য পাশে বসে আছে। সে জানে অনিক কিছু বলবে না। আজকাল তাদের কথার প্রয়োজন নেই; চোখে চোখ রাখারও প্রয়োজন নেই। যে সম্পর্ক একসময় ছিল ভালোবাসায় ভরা, তা এখন দমবন্ধ করা নিরবতায় ভেঙে গেছে।
তন্ময়া বরাবরই নিজের মতো ছিল। তার কথাগুলো ছিল ছুরির মতো ধারালো। প্রতিটি ঝগড়ার পরে, অনিক চেষ্টা করত শান্ত থাকার। কিন্তু দিনের পর দিন, তন্ময়ার তীক্ষ্ণ কথাগুলো তার মনকে বিষাক্ত করে তুলেছিল।
অনিক কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল। তার ভাঙা মন যেন এই অপমানের আরেকটি অধ্যায় হিসেবে মেনে নিল। তার চোখের কোণে জমতে থাকা অশ্রু আড়াল করার চেষ্টা করল।
অনিক ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। তার চোখে বিষন্নতার ছাপ।
"তন্ময়া, আমি অনেক চেষ্টা করেছি। তোমার জন্য, আমাদের সন্তানের জন্য। কিন্তু তুমি আমাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছ, যেখানে আমি নিঃশেষ হয়ে গেছি। আমার কাছে আর কিছু নেই দেওয়ার।"
অনিক একদিন গভীর রাতে বসে ছিল জানালার পাশে। বাইরের আকাশ ছিল নীরব। তার হাতের কাছে ছিল তাদের মেয়ের একটি ছবি। সে মনে মনে বলল,
“তোমার জন্যই তো এতদিন সহ্য করেছি। কিন্তু আর পারছি না।”
সেদিন প্রথমবার অনিক বুঝতে পারল, তন্ময়া তাকে শুধু দূরত্বে ঠেলে দেয়নি; তার হৃদয়ে একটা গভীর শূন্যতাও তৈরি করে দিয়েছে।কিন্তু সত্যি কথা হলো, অনিক ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছিল।
কিন্তু তন্ময়ার সেই ঘৃণার বীজ এখন বিষাদের অরণ্য হয়ে অনিকের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে।
তন্ময়ার অভিযোগ বাড়তে থাকল। একসময় অনিক আর প্রতিবাদও করত না। তন্ময়া হয়তো ভাবত, অনিকের এই নীরবতাই তার জয়ের প্রমাণ।
তন্ময়ার ঝগড়াগুলো তখন আর সম্পর্কের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য ছিল না। বরং সেগুলো হয়ে উঠল এমন এক অস্ত্র, যা তাদের দুজনের মধ্যকার ভালোবাসার শেষ চিহ্নগুলোও ধ্বংস করে দিল।
তিক্ততা, ঘৃণা আর বিষাদের শুরু এখান থেকেই,
এই তিক্ততা তাদের ভালোবাসাকে শেষ করে দিয়েছে।
তন্ময়া নিজের আচরণে তা বুঝতে না পেরে নিজেই তৈরি করেছে সেই দূরত্ব, যা আর কখনো মিটবে না।
অনিক জানত না, সে কোথায় যাবে। তার কাছে কোনো গন্তব্য ছিল না। শুধু জানত, তন্ময়ার জীবন থেকে দূরে চলে যেতে হবে।
শেষ সিদ্ধান্ত
একদিন, গভীর রাতে, অনিক ব্যাগ হাতে তন্ময়ার সামনে দাঁড়াল। ঘরের ভেতর নীরবতা। তার মেয়েটি ঘুমাচ্ছে। তন্ময়া জানে, অনিক চলে যাবে।
অনিক ধীরে ধীরে বলল, “তোমার স্বপ্নে তুমি বাঁচো। আমি আমার স্বপ্নকে হারিয়ে ফেলেছি। এবার নিজের জন্য বাঁচতে চাই।”
তন্ময়া চুপ থাকে। এই প্রথম সে বুঝতে পারে, অনিক সত্যিই চলে যেতে চায়।
"তুমি আমাকে দোষ দিচ্ছ?" তার কণ্ঠস্বর কাঁপে।
"না, তন্ময়া। দোষের কথা বলার সময় পেরিয়ে গেছে। সম্পর্কের শুরুর দিনগুলো আমি আজও ভুলিনি। কিন্তু সেই দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেল, জানো? তোমার কথার তিক্ততায়, তোমার ঝগড়ার শব্দে। আমি এই দূরত্ব চাইনি, তন্ময়া। তুমি নিজেই তা তৈরি করেছ। আর আমি শুধু বেঁচে থাকার পথ খুঁজেছি। আজ সেই পথ খুঁজে পেয়েছি—দূরে, বহুদূরে।"
রাতের শেষ প্রহরে অনিক ব্যাগ হাতে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।
তার মেয়েটি ঘুমাচ্ছে।
একবার মনে হলো, তাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাবে। কিন্তু সে জানে, এই বিদায় তার জন্য নয়। মেয়েটির জন্য বুক ভেঙ্গে যাচ্ছে, তবুও অনিক তাকে জড়িয়ে ধরলো না।
তন্ময়াও তাকে থামানোর চেষ্টা করল না।
একসময় মাথা নিচু করে তন্ময়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
রাতের আকাশে চাঁদ ডুবতে বসেছে। সামনে অজানা পথ, অজানা গন্তব্য। সে জানে না কোথায় যাবে, শুধু জানে এই দূরত্বই তার বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়।
তন্ময়ার একাকীত্ব
তন্ময়া একা হয়ে গেল। প্রথমে তার মনে হলো, সে তার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। কিন্তু রাত গভীর হলে, নীরবতার মাঝে অনিকের মুখ ভেসে উঠত। তার চোখে ভাসতো অনিকের সেই নীরব চাহনি। কানে বাজতো।
“তুমি কি কখনো আমার হতে চেয়েছিলে?”
“তুমি কি কখনো আমার হতে চেয়েছিলে?”
“অনিক তো আমায় ভালোবাসত। আমি কি কখনো তার ভালোবাসাকে বুঝতে পেরেছি? নাকি আমার অভিমান আর রাগ তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে?”
ঘরের ভেতর তন্ময়া একা বসে থাকে। তার চোখে জল নেই। শুধু এক শূন্যতা।
অনিক হারিয়ে গেছে। তন্ময়া জানে, সে আর কখনো ফিরে আসবে না।
শূন্যতার বৃত্ত
তন্ময়া জানে না, অনিক কোথায়। অনিক জানে না, তন্ময়া তাকে নিয়ে আজও ভাবে। তাদের মধ্যে শুধু তিক্ততা আর দূরত্বের দীর্ঘ পথ।
তন্ময়া একা বসে নিজের ভুলগুলোর হিসাব কষে। তার চোখে জল নেই, শুধু এক শূন্যতা।
তার মনে পড়ে অনিকের শেষ কথাগুলো—
"তোমার স্বপ্নে তুমি বাঁচো। আমি আমার স্বপ্নকে হারিয়ে ফেলেছি। এবার নিজের জন্য বাঁচতে চাই।"
“তুমি তিক্ততা ভালোবেসেছ। আমি দূরত্ব বেছে নিয়েছি।”
তন্ময়া হয়তো নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার অন্তরের গভীরে একধরনের অনুশোচনা শুরু হলো।
তন্ময়ার চারপাশে সেই নীরবতা, যা সে নিজেই তৈরি করেছিল। এই নীরবতা তাকে শান্তি দেয় না। বরং প্রতিটি মুহূর্ত তাকে অনিকের স্মৃতি দিয়ে দগ্ধ করে।
অনিক কোথায়
তন্ময়া আর অনিকের জীবন একসময় একসঙ্গে জড়িত ছিল, কিন্তু তাদের সম্পর্ক এখন কেবল এক শূন্য বৃত্তের মতো। অনিক তন্ময়াকে মনের গভীরে রেখে চলে গেছে, আর তন্ময়া একা বসে নিজের ভুলগুলোর হিসাব কষতে বসেছে।
তন্ময়া জানে না, অনিক কোথায়।
অনিক জানে না, তন্ময়া তাকে নিয়ে আজও ভাবে।
তাদের মধ্যে শুধু তিক্ততা আর দূরত্বের দীর্ঘ পথ।
অনিক হারিয়ে গেল। কোথায় গেল, কেউ জানল না। কেউ জানতেও চাইল না।
এই দূরত্ব কি কোনোদিন মিটবে? নাকি তাদের গল্প এখানেই শেষ হয়ে যাবে, শূন্যতার বৃত্তে হারিয়ে?
তন্ময়া তুমি আমাকে চেনো না, আমি দরকার হলে পৃথিবীর সব ছাড়বো। কিন্তু যেখানে অবিশ্বাস, অপমান, ঘৃনা, তিক্ততা, সেখানে আর ফিরবো না।
কষ্ট শুধু একটাই "আমার মেয়েটা"
তুমি ওকে তোমার সত বানিও না। ওকে মানুষ বানাও যার ভীতর অহমিকা নয় মানবিকতা থাকবে। ওকে আকাশের মত বানাও। দম্ভহীন, মানুষের প্রতি ঘৃনাহীন, উদার।
যদিও তোমার কাছ থেকে এইটা শিক্ষা পাওয়া ওর পক্ষে সম্ভব না, কিন্তু ওর বাবার কিছুটা হলেও ও যেন পায়। এই প্রার্থনা।
অভিশপ্ত জীবন
তন্ময়ার জীবন ক্রমশ এক অভিশপ্ত গহ্বরে নিমজ্জিত হলো। অনিকের চলে যাওয়ার পর তার জীবনের প্রতিটি দিনই যেন এক অনন্ত শাস্তি।
তন্ময়ার চাকরির চাপ, আরুহির দেখাশোনা, আর নিজের ভেতরের শূন্যতা—সবকিছু মিলিয়ে তার জীবন হয়ে উঠল এক দুঃসহ যন্ত্রণার ঘূর্ণি।
তার মনে হতো, অনিক চলে যাওয়ার পর জীবন থেকে রঙ মুছে গেছে। চারপাশের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাকে ব্যঙ্গ করে।
মাঝে মাঝে তন্ময়া ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতিতে পুড়ত।
“আমি কি একাই এই দূরত্ব তৈরি করিনি? আমার অহংকার, আমার কথার তীব্রতা কি আমাদের সুখকে গ্রাস করেনি?”
কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগেই তার দিনগুলো আবার নীরবতায় ডুবে যেত।
আরুহির অসুস্থতা
একদিন আরুহি প্রচণ্ড জ্বরে ভুগতে শুরু করল। ছোট্ট মেয়েটি কাঁপছে, তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে।
তন্ময়া ছুটে হাসপাতালে নিয়ে গেল। ডাক্তার বলল, “ওর শরীর খুব দুর্বল। মানসিক চাপও হয়তো ওর রোগকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
তন্ময়া বুঝতে পারল, আরুহি তার বাবার অভাব সহ্য করতে পারছে না।
মেয়েটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তন্ময়ার হাত ধরে বলল,
“মা, আমি বাবার কাছে যেতে চাই। বাবা কি আমাকে দেখতে আসবে?”
তন্ময়ার চোখ ভিজে গেল। সে বলল, “তোমার বাবা অনেক দূরে, মা। কিন্তু সে তোমাকে খুব ভালোবাসে। তুমিই তার পৃথিবী।”
আরুহি চোখ বন্ধ করল। তার ছোট্ট মুখটা তপ্ত জ্বরের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
তন্ময়ার অনুশোচনা
তন্ময়া মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে নিজের জীবনের প্রতিটি ভুলের হিসাব কষে।
“আমি কেন এমন করলাম? কেন অনিকের ভালোবাসাকে তুচ্ছ করলাম? কেন আমি নিজের অহংকারের কাছে হেরে গেলাম?”
এই প্রশ্নগুলো প্রতিদিন তাকে কুড়ে কুড়ে খায়।
অনিকের কথা মনে পড়া
রাত গভীর হলে তন্ময়া জানালার পাশে বসে থাকত। বাইরে তাকিয়ে সে শুনতে পেত সেই কথাগুলো, যেগুলো অনিক শেষবার বলেছিল।
“তুমি তিক্ততা ভালোবেসেছ। আমি দূরত্ব বেছে নিয়েছি।
তন্ময়া তুমি আমাকে চেনো না, আমি দরকার হলে পৃথিবীর সব ছাড়বো। কিন্তু যেখানে অবিশ্বাস, অপমান, ঘৃনা, তিক্ততা, সেখানে আর ফিরবো না। "
তার মনের গহীনে এক চিৎকার উঠে আসত, “অনিক, আমি ভুল করেছি। কিন্তু তুমি কেন মেয়েটার জন্যও ফিরে এলে না?”
অনিকের দূরত্ব যেন তন্ময়ার জন্য অভিশাপ হয়ে রইল।
“তুমি ঠিক বলেছিলে, অনিক। তিক্ততাই আমার ভালোবাসা ছিল। আর আজ এই তিক্ততা আমার জীবনটাকেই ধ্বংস করে দিল।”
নীরব শাস্তি
তন্ময়া এখন একা। চার দেয়ালের মধ্যে দিন কাটে। ঘরের কোণে আরুহির খেলনা, তার পোশাক, তার ছোট ছোট জুতা। প্রতিটি জিনিস তার জন্য একেকটা শাস্তি হয়ে দাঁড়ায়।তন্ময়া নিজেকে বলে,
“আমি এক অভিশপ্ত মা। আমার অহংকার, আমার ঘৃণা, আমার দূরত্ব আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমি আর কখনো মুক্তি পাব না।”
তন্ময়া জানে, এই অভিশাপ তার জীবনসঙ্গী হয়ে থাকবে—একটি জীবন্ত দগদগে ক্ষতের মতো।


sad very sad
ReplyDelete