Posts

তন্ময়া সিরিজ গল্প: অচেনা অতিথি ৩য় পর্ব

Image
  তন্ময়া সিরিজ  গল্প: অচেনা অতিথি ৩য় পর্ব অতীত  তন্ময়া জানত, তার অতীতের সাথে জড়িয়ে থাকা অন্ধকার শক্তির অস্তিত্ব একদিন তার কাছে ফিরে আসবে। সেই দিনটা আজ এসে পড়েছে। তার ভেতরের অশরীরী শক্তি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছিল, যেন কোনো সময় সীমা বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল না। সেগুলো তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছিল। কিন্তু তন্ময়ার কাছে এই শক্তির উৎস কী? তার এই অদ্ভুত ক্ষমতা কি জন্মগত? নাকি এটি কোনো প্রাচীন অভিশাপের ফলস্বরূপ? কোনো রহস্যময় ঘটনার শিকার হয়ে সে এই শক্তি পেয়েছে? তার পেছনে রয়েছে এমন কোনো গোপন ইতিহাস যা তাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে? তন্ময়ার অতীতের অন্ধকার দাগগুলো ক্রমশ                 স্পষ্ট হতে শুরু করল।                                                   তার মুখে দৃঢ়তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলো একে একে ভেসে উঠছে।  ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই তাকে আজকের তন্ময়া বানিয়েছে।...

তন্ময়া সিরিজ গল্প: অচেনা অতিথি

Image
  তন্ময়া সিরিজ গল্প: অচেনা অতিথি তন্ময়া সন্ধ্যা থেকেই মনটা কেমন যেন অস্থির লাগছিল। যদিও বিপদের কোনো সম্ভাবনা নেই, তবু তন্ময়া নিশ্চিত হতে পারছিল না। রাত দশটায় “রিজেন্সি প্যালেস” থেকে গাড়ি আসার কথা। ভোর চারটায় ফ্লাইট, তাই বাড়ি থেকে যাওয়াটাই নিরাপদ মনে করে তন্ময়া ছোট একটা লাগেজ গুছিয়ে রেখেছিল। রাত নয়টার দিকে দরজার কলিংবেল বেজে উঠল। এত রাতে কে আসবে? রাজউকের এই প্রকল্পের ভবনগুলোতে অনেকেই নতুন এসেছে। সন্ধ্যা হলে শেয়ালের ডাক শুনলে মনে হয় কোনো জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে এসে পড়েছি। কেউ ইন্টারকমেও যোগাযোগ করেনি। “মা, দেখো তো কে এসেছে।” তন্ময়ার মা দরজা খুলতেই দুজন সাদা পোশাক পরা লোক ঘরে ঢুকে পড়ল। ভয় পেয়ে তন্ময়ার মা জিজ্ঞেস করলেন, “আপনারা কারা?” “তন্ময়া কোথায়?” “তন্ময়া? কে তন্ময়া? এখানে তো কেউ নেই।” “আপনি চিনেন না তন্ময়া নামের কাউকে?” দুজন লোক একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলল, “মনে হচ্ছে ঠিক বাসা, তবে নাম পাল্টানো হয়েছে।” “বাসায় কে কে আছেন?” “আমার স্বামী আর মেয়ে।” “আপনার মেয়ের নাম কী?” “তনুশ্রী দাস।” “তনুশ্রীকে ডেকে দিন।” “তনু…” ডাকার আগেই তন্ময়া নিজের রুম থেকে বের হয়ে এলো। অচেনা দু...

তন্ময়া সিরিজ গল্প: অচেনা অতিথি ২য় পর্ব

Image
তন্ময়া সিরিজ  গল্প: অচেনা অতিথি      ২য় পর্ব তন্ময়া ঠান্ডা মাথায় বসে ছিল। বাইরে থেকে তাকে নিরীহ ও নির্ভীক মনে হলেও, তার ভেতরে এক বিস্ময়কর শক্তি সক্রিয় হতে শুরু করেছে। অফিসারকে দেখে তার মনে পড়ল, কত দিন আগের কথা। পুরনো এক গুরু বলেছিল, "তোমার মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে, যা একদিন তোমাকে রক্ষা করবে। কিন্তু মনে রেখো, এই শক্তি কখনো অহংকারের জন্য নয়। শুধু সঠিক সময়ে এটি ব্যবহার করো।" তন্ময়া বুঝতে পারল, সময় এসেছে। নিজের ভেতরের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। মায়ার জাল অফিসার আবার প্রশ্ন করলেন, "আপনার শেষ টিকটক ভিডিওতে অদ্ভুত কিছু ছন্দময় শব্দ ছিল। এগুলো কোথা থেকে শিখেছেন?" তন্ময়া শান্ত গলায় বলল, "ওগুলো স্রেফ রিলের জন্য বানানো। কোনো গুপ্ত বার্তা নয়।" অফিসার এবার গম্ভীর হয়ে বললেন, "আপনার এই ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট নই। সত্যটা বলুন।" তন্ময়া একদৃষ্টিতে অফিসারের দিকে তাকাল। তার চোখ ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগল। "আপনারা যখন সঠিক প্রমাণ পাবেন, তখন আমার কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হবে।" তার কণ্ঠ যেন মন্ত্রমুগ্ধ করে দিল। অফিসারের মুখে আর কোনো কথা আসছিল না। ছদ্ম...

কর্ন পিশাচি আসছে রাত ন'টায় Razonna Mystivers ইউটিউব চ্যানেলে

Image
  কর্ন পিশাচি আসছে রাত ন'টায়  Razonna Mystivers  ইউটিউব চ্যানেলে Click করুন Youtube https://www.youtube.com/channel/UC_8Ip9WW4uptQ26HoBvemsA এখানে ক্লিক করুন

গল্প: কালোজাদু, পিচাশ, পেত্নী ও সাহায্যকারি জ্বিন

Image
   গল্প: কালোজাদু, পিচাশ, পেত্নী ও সাহায্যকারি জ্বিন  দূর গ্রামে একটি পুরোনো মাটির ঘর ছিল। সেই ঘরের মালিক ছিলেন মনির হোসেন। মনিরের একমাত্র ছেলে আরিফ এবং তার বউ মায়া। মনিরের এই ঘরটি বহু পুরোনো এবং অনেকেই বিশ্বাস করত যে ঘরটিতে পিশাচ আর পেত্নীর বাস। মনির এসব কথা বিশ্বাস করতেন না। তিনি শুধু বলতেন, "এগুলো গ্রামের মানুষের গুজব।" কিন্তু আরিফের বউ মায়া এ নিয়ে অনেক ভয় পেত। মায়া সবসময় অনুভব করত, যেন কেউ তাদের দেখছে। রাতে তাদের ঘরের জানালা কাঁপতে থাকত, অথচ বাইরে কোনো বাতাস থাকত না। ঘরের দেয়ালে অদ্ভুত ছায়া ঘুরে বেড়াত। কালোজাদুর সূত্রপাত একদিন গ্রামের এক তান্ত্রিক, করিম ফকির, মনিরের বাড়ি এসে বলল, "তোমার এই ঘর অভিশপ্ত। এখানে পিশাচ আর পেত্নী বাস করে। তাদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে তোমার ছেলে আর তার বউ বিপদে পড়বে।" করিম ফকির প্রতিশ্রুতি দিল যে, সে কালোজাদুর মাধ্যমে এই পিশাচ আর পেত্নীকে চালনা করতে পারে। মনির প্রথমে রাজি না হলেও আরিফ ও মায়ার নিরাপত্তার জন্য করিম ফকিরকে সাহায্যের অনুমতি দিলেন। জাদুর ভয়ঙ্কর প্রভাব করিম ফকির শুরু করল তার কালোজাদু। রাতের গভীরে, মাটির ঘরের উঠানে তান্ত্রিক মন্ত্...

একা মানুষের গল্প

Image
  একা মানুষের গল্প রাত রাত গভীর। নির্জন রাস্তায় বাতিগুলো ফিকে হয়ে জ্বলছে। শহরের কোলাহল অনেক আগেই থেমে গেছে। তানভীর একা বসে আছে তার ছোট্ট ফ্ল্যাটের বারান্দায়। হাতে এক কাপ ঠাণ্ডা চা, যা তার মতোই নিঃসঙ্গ। দুঃখ দিয়ে দুঃখ ঢাকা ভুল ছাপিয়ে দুখের নদী বয়ে চলে একা এই জীবন ধুলোর খেলা এই ভুবন মায়ার মেলা তানভীর একজন কর্পোরেট কর্মী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ, মিটিং, প্রেজেন্টেশন—তার জীবনের এই চক্র যেন থেমে নেই। কিন্তু কাজের পরেও তার জীবন যেন থেমে আছে, যেন শূন্য। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও একাকীত্ব তার পিছু ছাড়ে না। বন্ধুবান্ধব, পরিবার—সবাই তার জীবনে ছিল, তবুও কোথায় যেন একটা ফাঁক রয়ে গেছে। আজকের দিনটা অন্য দিনের মতো ছিল না। অফিস থেকে ফিরে দরজা বন্ধ করার সাথে সাথেই সে অনুভব করলো তার মনের ভেতরে জমে থাকা শূন্যতার ভার। "মানুষ কি সত্যি একা?"—এই প্রশ্নটা তার মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল। তানভীর হঠাৎ করে তার পুরনো একটা ডায়েরি বের করলো। ডায়েরিটা তার কলেজ জীবনের সঙ্গী। সেখানে সে তার স্বপ্নগুলো লিখতো। পাতা উল্টাতে উল্টাতে চোখে পড়লো এক জায়গায় লেখা— বাঁচার স্বপ্ন তানভীর বুঝতে পারলো, এত ব্যস্ততা...

ভৌতিক গল্প কাঠেরপুতুল ও পান্ডুলিপি

Image
 ভৌতিক গল্প   কাঠেরপুতুল ও পান্ডুলিপি     কাঠেরপুতুল ও পান্ডুলিপি    ১ রাত তখন গভীর। বাইরে নির্জনতা এবং অন্ধকারের শাসন। বৃষ্টি থেমেছে কিন্তু মাটির গন্ধ এবং ভেজা পাতার শিরশির শব্দ বাতাসে মিশে আছে। আকসার নিজের ঘরের ভেতর চুপচাপ বসে ছিলেন। ঘরের একমাত্র কুপি বাতির আলোতে তাঁর ছায়াটা দেয়ালে ঢেউ খেলছিল। তাঁর পায়ের কাছে শুয়ে থাকা এলশেশিয়ান কুকুরটা হঠাৎ গর্জন করে উঠল। আকসার ধীর গলায় বললেন, “কি হয়েছে, মেজো?” কুকুরটা কান খাড়া করল, তারপর ঘরের কোণায় তাকিয়ে গলাজোড়ে গর্জন শুরু করল। ঘরের কোণায় তেমন কিছুই ছিল না। তবে মিসির আলি জানতেন, কুকুরের এই আচরণ অবহেলার নয়। তিনি ঘরের কোণায় তাকালেন। প্রথমে কিছুই দেখতে পেলেন না। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে জানালার বাইরে কোনো এক ছায়া দ্রুত সরে গেল। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। কুকুরটা লাফ দিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আকসার দরজার ছিটকিনি খুলে বাইরে তাকালেন। কেউ নেই। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, চাঁদের আলো অনুপস্থিত। “কেউ আছে?” তিনি জোরে জিজ্ঞেস করলেন। কোনো উত্তর এল না। কিন্তু ঠিক তখনই তিনি শুনলেন  মাটিতে পাতার চাপা মচমচ শব্দ। যেন কেউ খুব সন্তর্পণে হাঁ...