গল্পটি বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে জ্বিনের কালো অভিশাপ
গল্পটি বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে
জ্বিনের কালো অভিশাপ
আমার ছোট ভাই সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এসেছিল। তার সাথে একজন বাংলাদেশি ছেলেও ছিল, যার নাম রাফি। রাফি তার বন্ধুর মতোই সাধারণ ছেলে ছিল, কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তার জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটতে শুরু করে যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছিল না। সে বলেছিল, সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন তার সাথে ইন্দোনেশিয়ার এক মেয়ের সম্পর্ক হয়েছিল। মেয়েটি ছিল বেশ সুন্দরী, কিন্তু তার আচরণে ছিল একধরনের রহস্যময় গাম্ভীর্য।
মেয়েটির নাম ছিল সায়রা। তাদের সম্পর্কটি ভালোই চলছিল, কিন্তু কিছুদিন পর রাফি লক্ষ্য করে, সায়রা অদ্ভুত কিছু আচরণ করছে। একদিন সায়রা তাকে বলে, "যদি তুমি আমাকে ছেড়ে যাও, তাহলে তোমার জীবনে কালো ছায়া নেমে আসবে। আমি এমন কিছু জানি যা তোমাকে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত করতে পারে।" রাফি প্রথমে কথাটি তেমন গুরুত্ব দেয়নি, ভেবেছিল মেয়েটি হয়ত তাকে হারানোর ভয়ে এমন কথা বলছে।
কিছুদিন পর রাফি আর সায়রার সম্পর্ক ভেঙে যায়। রাফি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসে, সে ভেবেছিল সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক তখনই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করে। একদিন রাতের বেলা হঠাৎ করে তার বাম হাতে অদ্ভুত ব্যথা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে কালো দাগ দেখা দেয়, যেন কোনো বিষাক্ত ইনজেকশনের চিহ্ন।
রাফি ভয় পেয়ে গেল। সে মনে মনে ভাবল, "এটা কি কোনো অভিশাপ? সায়রার কথা কি সত্যি?" এর কয়েকদিন পর থেকে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ দেখা যেতে থাকে, ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। রাতে ঘুমোতে গেলেই তার মনে হয়, কেউ যেন তাকে দেখছে, ঘরের কোণ থেকে একটি কালো ছায়া তাকে লক্ষ্য করছে।
রাফি তার একজন পরিচিত হুজুরের কাছে যায়। হুজুর তাকে বলেন, “তোমার ওপর কালো জাদু করা হয়েছে, আর এটা সাধারণ জাদু নয়। কোনো জ্বিনের সাহায্যে তোমার শরীরে এই কালো ছায়া ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা ব্ল্যাক ম্যাজিকের ইনজেকশনের মতো তোমার শরীরে এই যাদু প্রবেশ করিয়েছে, যা তোমার দেহ ও মনের উপর কুপ্রভাব ফেলছে।”
![]() |
| বাস্তব কাহিনী শুনতে হলে ক্লিক করুন |
এই কথা শুনে রাফি আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হুজুর তাকে বলে, "এই যাদু থেকে মুক্তি পেতে তোমাকে ধৈর্য ধরে কিছু বিশেষ আমল করতে হবে। প্রতিদিন কোরআনের নির্দিষ্ট কিছু আয়াত পাঠ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।"
কিছুদিন আমল করার পরেও রাফি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারছিল না। তার শরীরের কালো দাগগুলো গভীর থেকে গভীরতর হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একদিন রাতে, সে প্রচণ্ড কষ্টে তার ছোট ভাইকে ফোন করে বলে, "ভাই, আমি আর বাঁচতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমার শরীরের ভেতরে কেউ বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে। খাবার খেলেও আমার ক্ষুধা মেটে না, বরং আরও অস্থির লাগে। স্বপ্নে সে সায়রাকে অবয়বকে দেখে এবং অবয়বটি আস্তে আস্তে ভয়ংকর রুপ নেয়। এবং বলে তোকে বলেছিলাম আমি তোকে ছাড়বো না। এই বলে হাসি দেয়। যাতে সারা শরীর ভয়ের শিহরন বয়ে যায়" রাফি চিৎকার করে ওঠে। সাথে সাথে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
রাফির ভাই তার অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং সে তার অন্য বন্ধুদের ডেকে আনে। রাফি মেঝেতে পড়ে কাঁপছিল, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। তার বন্ধুরা দেখল, রাফির শরীরের কালো দাগগুলো আরও গাঢ় হয়ে গেছে এবং একধরনের পচা গন্ধ বের হচ্ছে। তার শরীরের প্রতিটি অংশ ভীষণ যন্ত্রণায় কাঁপছিল, কিন্তু সে নিজেকে ঠিকমতো সামলাতে পারছিল না।
সবার মনে তখন একটাই প্রশ্ন, "এখন কি করা যায়?" কিছুটা ভীত ও অসহায় হয়ে সবাই ভাবতে লাগল, যদি সায়রা সত্যিই জ্বিনের সাহায্যে রাফির উপর এমন কালো জাদু করে থাকে, তবে কিভাবে তাকে এর থেকে রক্ষা করা যাবে?
![]() |
| click |
রাত আরও গভীর হলে, একজন সম্পূর্ন অপরিচিত প্রায় সাতফুট লম্বা ধবধবে সাদা আলখেল্লা বয়স্ক লোক এসে ঘরে প্রবেশ করে। তাদের বললেন, "এই মুহূর্তে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাই একমাত্র উপায়। এবং রাফিকে কিছু দোয়া পড়ে ফু দেয় এবং জমজমের এক বোতল পানি দেয়। এবং বলে এই কালো জাদু অত্যন্ত ভয়ানক, এবং জ্বিনের প্রভাব যখন কোনো মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ে, তখন তা সহজে মুক্ত হয় না। তবে কিছু আমল আর পবিত্র পানি দিয়ে যদি তোমরা চেষ্টা করো, ইনশাআল্লাহ্ সে মুক্তি পেতে পারে।"
এই বলে হুজুরের মত সাদা আলখেল্লা লোকটি বাইরে যায়। এবং যাবার সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যায়। আসলে লোকটি একজন ঈমানদার মুসলিম জ্বিন ছিলো।
রাতভর রাফির বন্ধুরা দোয়া করতে থাকল, সেই জমজমের পবিত্র পানি ছিটিয়ে রাফির দিকে তাকিয়ে থাকল, আর মনে মনে এই কালো ছায়া থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করল। তারা জানত, এই যাদুর শক্তি ভয়ানক, কিন্তু বিশ্বাস করল আল্লাহর সাহায্যেই রাফি এ থেকে মুক্তি পাবে।
শেষ রাতের দিকে রাফির শরীর কিছুটা শান্ত হলো। কালো দাগগুলোও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যেতে শুরু করল। তবে পুরোপুরি মুক্তির জন্য তাকে আরও কিছুদিন এই দোয়া আর আমল করতে হবে
– বিশ্বাসের শক্তি অনেক বড়, আর যেকোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই মুক্তির পথ।
শেষ।


.webp)

Comments
Post a Comment