শাড়ির ভাঁজে লুকানো ভালোবাসা

 

শাড়ির ভাঁজে লুকানো ভালোবাসা

 









 


রাতের অন্ধকারে জেগে ওঠে প্রেম, কিন্তু দিনের আলোয় কোথাও যেন হারিয়ে যায় সম্পর্কের গভীরতা। তন্ময় আর সোহিনীর বিয়েটা হয়েছিল চার বছর আগে। প্রথম দুই বছর ভালোই চলছিল। তন্ময় ভালোবাসা দিয়েই সোহিনীকে জয় করেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ভালোবাসার বদলে এসেছে অধিকার, মমতার বদলে এসেছে অবহেলা।


তন্ময়ের জীবনের ব্যস্ততা তাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল যে, তার পাশে থাকা মেয়েটি শুধু তার সঙ্গী নয়, তার জীবনের পরিপূরক।


এক সন্ধ্যায় তন্ময় বাসায় ফিরল ক্লান্ত হয়ে। সোহিনী দরজা খুলে বলল,

“কেমন আছো? কিছু খাবে?”

তন্ময় বিরক্ত হয়ে বলল,

“সবসময় এসব প্রশ্ন করো কেন? নিজের কাজ করো। সারাদিন তো ঘরেই থাকো, তোমার আর কাজ কী!”


সোহিনী একটু থেমে হাসল। কিন্তু তার হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল একরাশ কষ্ট। সে জানত, তন্ময়ের এসব কথা তার মনের নয়, শুধু রাগের বহিঃপ্রকাশ।


সেদিন রাতে তন্ময় খেয়াল করল, সোহিনী বেশ চুপচাপ। অন্যদিনের মতো খুনসুটি করছিল না। কিন্তু তার এই নীরবতায় তন্ময়ের কোনো মাথাব্যথা ছিল না।




পরদিন সকালে তন্ময়ের ঘুম ভাঙল একটা অদ্ভুত শব্দে। দেখে সোহিনী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ি পরছে। তার মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। তন্ময় কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“আজ আবার শাড়ি কেন?”


সোহিনী হেসে বলল,

“তুমি তো বলেছিলে, শাড়ি পরলে আমাকে মায়াবতী লাগে। ভাবলাম, আজ একটু তোমার কথাটা রাখি।”


তন্ময়ের বুকের ভেতরটা কোথাও যেন কেঁপে উঠল। এতদিন ধরে সে শুধুই দেখেছে সোহিনীর শরীর, তার চাহিদা পূরণের মাধ্যম। কিন্তু আজ প্রথমবারের মতো সে দেখল সোহিনীর আত্মা।


সে এগিয়ে গিয়ে বলল,

“শাড়িটা আমি ঠিক করে দিই?”


সোহিনী অবাক হয়ে তন্ময়ের চোখের দিকে তাকাল। তন্ময়ের কণ্ঠে ছিল ভালোবাসার কোমল স্পর্শ। সে প্রথমবারের মতো বুঝল, সোহিনী শুধু তার সংসার চালায় না, তার জীবনটা গড়ে তোলে।


শাড়ির ভাঁজ ঠিক করতে করতে তন্ময় বলল,

“তুমি জানো, তোমার নাভীর কাছে একটা তিল আছে? আজ খেয়াল করলাম।”


সোহিনীর চোখ ভিজে গেল। এতদিন পর তার প্রিয় মানুষ তাকে নতুন করে আবিষ্কার করছে।


সেদিন রাতটা ছিল আলাদা। শরীরের ভাষা মুছে গিয়ে সম্পর্কের ভাষা ফিরে এসেছিল। সোহিনীর চুলে হাত বুলিয়ে তন্ময় বলল,

“তোমার চুলের ঘ্রাণটা যেন নেশার মতো। মনে হয়, সারাজীবন তোমার কাছেই থাকি।”


সোহিনী মৃদু হাসল। এই হাসিটুকুই তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করল। কামনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা ধীরে ধীরে তন্ময়কে বদলে দিল।


প্রেম শুধু শরীরের নয়; প্রেম আত্মার। সম্পর্কের সৌন্দর্য তখনই টিকে থাকে, যখন তুমি মানুষটাকে পুরোপুরি দেখতে শিখো—শুধু চোখে নয়, হৃদয়ের গভীরে।




Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই