গল্প: পৃথিবীর প্রতিবিম্ব
গল্প: পৃথিবীর প্রতিবিম্ব
রাত তখন গভীর। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলজ্বল করছে, কিন্তু স্নিগ্ধ আলোয় যেন সারা পৃথিবী ঢেকে গেছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। গ্রামের শেষ প্রান্তে একা বসে আছে রঞ্জু। জীবন নিয়ে তার ক্ষোভের অন্ত নেই। দারিদ্র্য, অপমান, আর একাকীত্বের ভারে তার মন যেন ক্রমশই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।
"সব শেষ হয়ে গেছে," নিজের মনে বলে ওঠে রঞ্জু। "মরার চাইতে ভালো কিছু নেই।"
এমন সময় হঠাৎ কে যেন তার পেছন থেকে বলে উঠল, "তুমি কি সত্যিই মরতে চাও?"
রঞ্জু চমকে পেছনে তাকায়। দেখে, অদ্ভুত এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও বৃদ্ধের চোখে অদ্ভুত এক জ্যোতি।
"তুমি কে?" রঞ্জু জিজ্ঞাসা করে।
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে হাসল। "আমি একজন পথিক। শুনলাম তুমি মরণ চাও। কিন্তু মরার আগে কিছু বোঝা দরকার, তাই এখানে এসেছি।"
রঞ্জু বিস্মিত হয়ে বলে, "কি বোঝাবেন?"
বৃদ্ধ বললেন, "জীবন হলো আয়নার মতো। তুমি যা চাইবে, তাই পাবে। মরণ চাইলে, মরণ আসবেই। কিন্তু খুব করে বাঁচতে চেয়েছ কখনো?"
রঞ্জু মাথা নাড়ল। "সবাই শুধু কষ্টই দিয়েছে। ভালো কিছু চাইব কিভাবে?"
বৃদ্ধ গভীর স্বরে বললেন, "যে কষ্ট দেয়, তার জন্য ঘৃণা নয়; ক্ষমা করো। যে অবহেলা করে, তাকে মুছে দিও না, বরং তার প্রতি ভালোবাসা দেখাও। দেখবে, আয়নাটা বদলে গেছে।"
রঞ্জু কিছু বলতে পারল না। বৃদ্ধ হঠাৎ কোথাও হারিয়ে গেলেন। রঞ্জু বুঝতে পারল, জীবন তাকে এক নতুন পথ দেখিয়েছে।
পরের দিন সকালে রঞ্জু নতুন উদ্যমে কাজে নামে। কষ্টগুলোকে ভুলে, অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা শুরু করে। একসময় সে টের পেল, তার জীবনেও শান্তি আসতে শুরু করেছে। সে বুঝল, জীবন আসলে তার নিজের প্রতিচ্ছবি।
রঞ্জু তার পুরোনো জীবনের কষ্টগুলো ভুলে গিয়ে হাসিমুখে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সে বুঝতে পেরেছে, "খুব করে বাঁচতে চাইলে, খুব বাঁচা যায়।"
.jpeg)
সুন্দর
ReplyDelete