জ্বিন ভুতের গল্প অদ্ভুত প্রতিচ্ছবি
জ্বিন ভুতের গল্প
অদ্ভুত প্রতিচ্ছবি
মহিমা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার টেনশন, এবং ব্যক্তিগত জীবনের ছোটখাটো সমস্যা নিয়েই দিন কাটে তার। কিন্তু ইদানীং এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা তার বাস্তবতা এবং যুক্তির ওপর এক অদ্ভুত ছায়া ফেলে দিয়েছে। এই গল্প তার এবং তার চারপাশে ঘিরে থাকা এক অজানা রহস্যের।
| Claim your Prize |
প্রথম প্রতিচ্ছবি
১৫-১৬ দিন আগের কথা। মহিমা তার বান্ধবী সাদিয়ার কাছ থেকে একটি অদ্ভুত প্রশ্ন শুনল।
"মহিমা, তুমি কাল সকাল ৯টার দিকে মর্গের দিকে একা একা কেন গেলে?"
মহিমা চমকে উঠল। "মর্গের দিকে? আমি তো কাল ১০টার আগে মেডিকেলে আসিনি।"
"তোমাকে মর্গের দিকে যেতে দেখেছি। একেবারে স্পষ্টভাবে। তুমি কী মজা করছ?"
মহিমা হাসতে চেষ্টা করল, "তুমি ভুল দেখেছ। আমি মর্গের দিকে যাইনি।"
কথাটা বলে সে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু মনের গভীরে একটা অস্বস্তি রয়ে গেল।
রাতের ছাদে প্রতিচ্ছবি
ইশার নামাজের পর রাতে হাঁটতে মহিমার খুব ভালো লাগে। আকাশের দিকে তাকিয়ে তার সব চাপ মুছে যায়। কিন্তু সেদিন সে ছাদে যায়নি।
রাতের এক ফাঁকে আম্মু এসে বললেন, "মহিমা, এত দ্রুত ছাদ থেকে ফিরে এলে কেন?"
"ছাদ থেকে? আমি তো ছাদে যাইনি, আম্মু। আজ পুরো সময় পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলাম।"
আম্মুর মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল। "আমি তো স্পষ্ট দেখলাম তুমি ছাদে গেলে। দরজাও খুলে রেখেছিলে। আমি নিজে গিয়ে দরজা বন্ধ করলাম। এরপর ২-৩ মিনিট পরে এসে দেখি, তুমি তো রুমেই আছো!"
এই ঘটনাটা মহিমার ভেতরে আরও গভীর ছায়া ফেলল। সে কি নিজের মধ্যেই বিভ্রান্তি তৈরি করছে, নাকি সত্যিই কিছু অদ্ভুত হচ্ছে?
বান্ধবীর বাসায় প্রতিচ্ছবি
মহিমার বান্ধবী নাফিজা। তিন দিন ধরে অসুস্থ থাকায় ক্লাস করতে পারেনি। মহিমা ভাবছিল সময় করে তার বাসায় যাবে। কিন্তু যেতে পারেনি।
পরের দিন ক্লাসে নাফিজা এসে বলল, "মহিমা, কাল বাসা থেকে না খেয়েই চলে এলে কেন? আম্মুর সঙ্গে কথা বললে, কিন্তু আমার সঙ্গে দেখা করলে না!"
মহিমা হতবাক। "নাফিজা, আমি তো কাল তোমার বাসায় যাইনি!"
"কী বলছ? মাগরিবের পরে তুমি চলে গেলে। আমার আম্মু তো তোমার সাথে কথা বলেছেন।"
এবার মহিমা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে অনুভব করল, তার জীবনে কিছু অস্বাভাবিক ঘটছে।
অন্ধকারের ছায়া
মহিমার দাদু ছোটবেলায় একটা গল্প বলতেন। মানুষের প্রতিচ্ছবি অনেক সময় বাস্তব নয়। কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি কারও রূপ নিয়ে মানুষের সামনে এসে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। মহিমা তার মায়ের কাছে বিষয়টা নিয়ে কথা বলল। মা তাকে পরামর্শ দিলেন, নিয়মিত সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং আয়াতুল কুরসি পড়তে।
অতীতের রহস্য
মহিমা এক রাতে তার ছোটবেলার ডায়েরি খুলে বসে। ডায়েরির একটি পাতা তার মনে করিয়ে দিল, ছোটবেলায় সে একবার হারিয়ে গিয়েছিল। তখন তার বয়স মাত্র আট। সেই হারানোর সময় নাকি কেউ তাকে অদ্ভুত কিছু কথা বলেছিল, যা তার এখন আর মনে নেই।
ডায়েরির লেখা পড়ে মহিমার মনের মধ্যে সেই সময়ের ভয়, রহস্য এবং অন্ধকার আবার জেগে উঠল।
ডপেলগ্যাংগারের ছায়া
মহিমা বিভিন্ন ইসলামিক বই এবং বন্ধুদের কাছ থেকে জানল, ডপেলগ্যাংগার বলতে বোঝায় এমন এক প্রতিচ্ছবি, যাকে দেখে মনে হয় সেটি সত্যিকারের ব্যক্তি। অনেক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, ডপেলগ্যাংগার অশুভ শক্তির প্রতীক। কিন্তু মহিমা ভাবল, এটি কি বাস্তব হতে পারে? নাকি তার কোনো শত্রু তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে?
শেষ দ্বন্দ্ব
মহিমা বিষয়টি নিয়ে একজন আলেমের সঙ্গে আলোচনা করল। তিনি বললেন, “জ্বীন বা অপশক্তি মানুষের আকৃতি ধারণ করতে পারে। তবে এদের ক্ষমতা সীমিত। নিজের ঈমান শক্তিশালী রাখো। নিয়মিত ইবাদত করো।"
মহিমা ঠিক করল, সে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখবে। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, এবং দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবে।
শেষ কথা
মহিমার জীবনে রহস্যগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করল। তবে সে জানে, কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো সে কখনোই খুঁজে পাবে না। অতিপ্রাকৃত জগতের রহস্য মানব মস্তিষ্কের সীমার বাইরে।
এ গল্প হয়তো কোনো শেষ উত্তর দেয় না। তবে এটি আমাদের একবার হলেও ভাবায়—আমাদের চারপাশের এই জগত কি শুধুই বাস্তব, নাকি তার বাইরেও কিছু আছে?
.jpeg)
সুন্দর গল্প
ReplyDelete