কবরস্থানের জ্বীন

        কবরস্থানের জ্বীন






 


গ্রামের প্রান্তে একটি পুরনো কবরস্থান ছিল, যেখানে সন্ধ্যা হলেই বৈরি অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ত। সবার মুখে গল্প ছিল, সেখানে জ্বীনদের আক্রমণ হয়। গ্রামের যুবক রিয়াদ এক রাতে তার বন্ধুদের সঙ্গে কবরস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা মনে করল, ভয়ংকর জ্বীনদের মুখোমুখি হলে তাদের সাহসী হওয়ার গল্প হবে।


রাতের অন্ধকারে কবরস্থানে প্রবেশ করে তারা নিজেদের মধ্যে হাসিঠাট্টা করতে থাকে। কিন্তু হঠাৎই একটি অদ্ভুত অনুভূতি তাদের তাড়া করতে থাকে। একের পর এক কবরের মধ্যে শব্দ শোনা যায়, যেন কেউ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। রিয়াদ তাদের সঙ্গে থাকা বাতিটি উঁচু করে ধরল, কিন্তু আলো অন্ধকারের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে ব্যর্থ হল। তারা একত্রে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যে কী ঘটছে।


এমন সময়, রিয়াদের চোখের সামনে একটি জ্বীন এসে উপস্থিত হলো। তার চেহারা ছিল ভয়ার্ত, মুখে ছিল ক্রুদ্ধ অভিব্যক্তি। জ্বীনটি বলল, “তোমরা এখানে কেন এসেছ? এই কবরস্থানে প্রবেশ নিষেধ!”

রিয়াদ আতঙ্কিত হয়ে প্রশ্ন করল, “আমরা শুধু সাহসের পরীক্ষা করতে এসেছি। আমরা তোমাদের ভয় পাই না!”

জ্বীনটি হাসল, “ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, তোমরা এখানে না আসলে আমি ক্ষিপ্ত হব না। তবে যেহেতু এসেছ, তাই তোমাদের এই স্থান থেকে ফিরে যাওয়ার পথ সহজ হবে না।”

এরপর, জ্বীনটি তাদের চারপাশে ঘুরতে শুরু করল, এবং অন্ধকারে কবরগুলির থেকে অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হলো। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তাদের মধ্যে ভয় ভরতে শুরু করল। বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও জ্বীন তাদের আটকে ফেলতে শুরু করল।

রিয়াদ তাদের নিরাপত্তার জন্য চেষ্টা করতে লাগল। সে জ্বীনটির উদ্দেশ্যে বলল, “আমরা শুধু একজনের সাহসী হওয়ার জন্য এসেছি। আমাদের ক্ষতি করবেন না, আমরা চলে যাব!”

জ্বীনটি তার কথা শুনে কিছুটা নরম হল, “তোমাদের সাহসী হতে হবে, কিন্তু তোমরা জানো না এখানে আসার পর কী ঘটতে পারে। এই কবরস্থানে বহু আত্মা বাস করে। তাদের মধ্যে অনেকেই শান্তিপ্রিয়, কিন্তু কিছু আত্মা ক্ষিপ্ত।”


জ্বীনটি তাদের সত্যিকার অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করে দিল। রিয়াদ বুঝতে পারল, তারা একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে বলল, “আমরা এখান থেকে চলে যাব। আমাদের ভুল হয়েছে।”

জ্বীনটি তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “যদি তোমরা দ্রুত চলে যাও, তবে আমি তোমাদের জীবন দান করব। কিন্তু সাবধান, এই স্থান থেকে বেরোনোর আগে তোমাদের সাহসী হতে হবে। মনে রাখবে, অন্ধকারে সত্যি কখনো অদৃশ্য হয় না। সাহসের সঙ্গে মুখোমুখি হলে তবেই তুমি জ্বীনের প্রকৃত শক্তি বুঝতে পারবে।”







Click  pLay  button 



তারা দ্রুত বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করল। তবে কবরস্থানের পথ দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। শেষে, জ্বীনটি তাদের যেতে দিল এবং তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করল। রিয়াদ এবং তার বন্ধুরা প্রাণে বেঁচে গেল, কিন্তু তাদের মনে একটি স্থায়ী ভয়ের অনুভূতি রয়ে গেল।

এখন তারা বুঝতে পেরেছিল, কখনো অন্ধকারের দিকে পা রাখা উচিত নয়, কারণ সেখানে যে রহস্য এবং বিপদ লুকিয়ে থাকে, তা কখনো সহজে মেনে নেওয়া যায় না। তাদের এই অভিজ্ঞতা সারা জীবনের জন্য মনে থাকবে, আর তারা কখনোই কবরস্থানে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবেনি।


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই