সায়েন্স ফিকশন ভৌতিক গল্প: অমরত্বের দোরগোড়ায়

সায়েন্স ফিকশন ভৌতিক গল্প: অমরত্বের দোরগোড়ায়







প্রথম অধ্যায়: অপরিচিত পৃথিবী


আয়নাতে নিজের বিকৃত চেহারা দেখে আরিফের চোখে অশ্রু জমে। একসময় সুদর্শন এই যুবক ছিল বিলাসবহুল জীবনের প্রতীক। বন্ধু-বান্ধব আর প্রেমিকা মেহজাবিনের সঙ্গে সময় কাটানোই ছিল তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সবকিছু পাল্টে দিলো। মেহজাবিনের মৃত্যু আর নিজের চেহারার বিকৃতি তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিল।


কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, তার মনে সন্দেহ জাগে— দুর্ঘটনাটি কি সত্যিই দুর্ঘটনা ছিল? কেন মেহজাবিন এমনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলো? আরিফ সেই দিনগুলো মনে করার চেষ্টা করে, কিন্তু তার স্মৃতিতে ফাঁক রয়ে যায়।


চেহারা পুনরুদ্ধারের জন্য সে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. তাহমিদ তাকে জানায়, তাদের একটি নতুন প্রযুক্তি আছে যা মানুষের চেহারা শুধু ফিরিয়ে দেয় না, বরং তার মানসিক যন্ত্রণা দূর করে দেয়। তবে এর জন্য তাকে একটি বিশেষ প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অমরত্বের প্রস্তাব


ড. তাহমিদের সঙ্গে আলোচনার সময় আরিফ জানতে পারে, এই প্রোগ্রামটি শুধু শারীরিক চিকিৎসা নয়, বরং মানুষের মস্তিষ্ককে এমন এক স্তরে নিয়ে যায় যেখানে সে নিজস্ব এক পৃথিবীতে বাস করতে পারে। এই পৃথিবীতে আরিফের ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু হতে পারে। তবে শর্ত একটাই— তাকে মৃত্যুর মতো একটি গভীর ঘুমে যেতে হবে।


দ্বিধাগ্রস্ত আরিফ রাজি হয়। প্রোগ্রামের প্রথম ধাপের পর তার চেহারা ফিরে আসে, কিন্তু তার জীবন যেন আরও জটিল হয়ে যায়। নতুন পৃথিবীতে সে দেখে মেহজাবিন বেঁচে আছে এবং তার প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তার বিরুদ্ধে একটি খুনের অভিযোগ ওঠে।


তৃতীয় অধ্যায়: বিভ্রান্ত বাস্তবতা


খুনের অভিযোগ তাকে স্তম্ভিত করে দেয়। তার বিরুদ্ধে প্রমাণও অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু আরিফ জানে, সে খুন করেনি। এদিকে তার পৃথিবী ক্রমশ বিভক্ত হতে থাকে।


প্রতিদিন সকালে সে দেখে নিজেকে জেলখানায়, আর রাতে সে ফিরে যায় সেই পৃথিবীতে যেখানে মেহজাবিনের সঙ্গে তার সুখের জীবন। সে বুঝতে পারে না, কোনটা বাস্তব আর কোনটা কল্পনা।


চতুর্থ অধ্যায়: সত্যের মুখোমুখি


আরিফ জানতে পারে, প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য ছিল তার স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করা। ড. তাহমিদ তাকে একটি পরীক্ষার গিনিপিগ বানিয়েছেন। এই প্রোগ্রামে আরিফের মস্তিষ্কের সঙ্গে মেহজাবিনের স্মৃতি স্থাপন করা হয়েছিল।


একদিন, তার কল্পনার জগতেও অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। মেহজাবিন বলে, “তুমি কি কখনো ভেবেছো, তুমি নিজেই আমার মৃত্যু চেয়েছিলে? আমি তো শুধু তোমাকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলাম।”


এই কথার সঙ্গে সঙ্গে আরিফের স্মৃতির প্রতিটি ফাঁক পূরণ হয়। সে বুঝতে পারে, দুর্ঘটনার পেছনে আসল কারণ ছিল তার নিজের অবচেতন মস্তিষ্ক।


পঞ্চম অধ্যায়: পুনর্জন্ম


আরিফ প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ড. তাহমিদ তাকে জানায়, এই প্রক্রিয়া থেকে ফিরে আসা মানেই তার মৃত্যুর সমান।


“আমার চেহারা, আমার সম্পদ— কিছুই চাই না। আমি শুধু বাস্তব জীবন ফিরে চাই,” বলে আরিফ প্রোগ্রামের সমাপ্তি চায়।


তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শেষ পর্যায়ে। সে তার চোখ বন্ধ করে এবং গভীর নিঃশ্বাস নেয়। যখন সে জেগে ওঠে, তখন সে নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় খুঁজে পায়।


সমাপ্তি


আরিফের চেহারা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু তার স্মৃতি তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। প্রকৃত সত্য কি ছিল, সে তা কখনোই পুরোপুরি জানতে পারবে না।


তবুও সে এক নতুন জীবনের শুরু করে, তার প্রতিটি মুহূর্তকে বাস্তবের মতো গ্রহণ করে। কারণ, অমরত্ব নয়, বরং বাস্তবের ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যই জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে।

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

গল্প তোমাদের জন্য এই তো যথেষ্ট

রঙ্গন জমিদার : অর্পন রহমান

গল্প ভালোবাসার ছাই