Posts

কবরস্থানের জ্বীন

Image
        কবরস্থানের জ্বীন   গ্রামের প্রান্তে একটি পুরনো কবরস্থান ছিল, যেখানে সন্ধ্যা হলেই বৈরি অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ত। সবার মুখে গল্প ছিল, সেখানে জ্বীনদের আক্রমণ হয়। গ্রামের যুবক রিয়াদ এক রাতে তার বন্ধুদের সঙ্গে কবরস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা মনে করল, ভয়ংকর জ্বীনদের মুখোমুখি হলে তাদের সাহসী হওয়ার গল্প হবে। রাতের অন্ধকারে কবরস্থানে প্রবেশ করে তারা নিজেদের মধ্যে হাসিঠাট্টা করতে থাকে। কিন্তু হঠাৎই একটি অদ্ভুত অনুভূতি তাদের তাড়া করতে থাকে। একের পর এক কবরের মধ্যে শব্দ শোনা যায়, যেন কেউ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। রিয়াদ তাদের সঙ্গে থাকা বাতিটি উঁচু করে ধরল, কিন্তু আলো অন্ধকারের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে ব্যর্থ হল। তারা একত্রে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে যে কী ঘটছে। এমন সময়, রিয়াদের চোখের সামনে একটি জ্বীন এসে উপস্থিত হলো। তার চেহারা ছিল ভয়ার্ত, মুখে ছিল ক্রুদ্ধ অভিব্যক্তি। জ্বীনটি বলল, “তোমরা এখানে কেন এসেছ? এই কবরস্থানে প্রবেশ নিষেধ!” রিয়াদ আতঙ্কিত হয়ে প্রশ্ন করল, “আমরা শুধু সাহসের পরীক্ষা করতে এসেছি। আমরা তোমাদের ভয় পাই না!” জ্বীনটি হাসল, “ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, তোমরা এখানে না আসলে ...

কেহ গরিব অর্থের জন্য কেহ গরিব রুপে এই দুনিয়ার সবাই গরিব কান্দে চুপে চুপে

Image
 কেহ গরিব অর্থের জন্য : কেহ গরিব রুপে  : এই দুনিয়ার সবাই গরিব কান্দে চুপে চুপে  এই পৃথিবীতে কেউ গরিব অর্থের জন্য, আর কেউ গরিব মন আর রূপে। সময়ের পরতে পরতে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটে। সোনার মতো মূল্যবান যেটা ছিলো, ধীরে ধীরে সেই সোনারই ঔজ্জ্বল্য মলিন হয়ে যায়। জীবনের এক একটি দিন যেন আমাদের সেই মূল্যবান সোনাকে একটু একটু করে ফিকে করে দেয়। এই দুনিয়ায়, বাহ্যিকভাবে সবাই হয়তো সুখী ও পরিপূর্ণ দেখায়, কিন্তু সত্যিকার অর্থে, আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কিছু না কিছু অপূর্ণতা রয়েই গেছে। কেউ অর্থের অভাবে দিন কাটায়, কেউবা মনের শান্তির জন্য খুঁজে বেড়ায়। একসময় সেই শক্তি, সেই রূপ, সেই মূল্যমান সবই যেন বিবর্ণ হতে থাকে। যারাই বাহির থেকে শক্তিশালী দেখায়, তাদের ভেতরেও একাকিত্বের ছায়া বাস করে। সুখী হওয়ার প্রতিযোগিতায় সবাই নিজের দুঃখগুলোকে আড়াল করতে শিখেছে। কেউ কান্না লুকিয়ে রাখে সমাজের চোখে, কেউ নিজের কষ্টকে হাসির আড়ালে ঢেকে রাখে। দিন শেষে, এই দুনিয়ার সবাই একভাবে না একভাবে গরিব। শুধু কেউ তা প্রকাশ করে, আর কেউ চুপে চুপে বয়ে বেড়ায় সেই ভার। জীবন হয়তো সবসময় দেবে না, কিছু নিতেও পারে।

পাহাড়ের কষ্ট যেমন ঝর্ণার স্রোতে বয়ে চলে, আমরাও ঠিক তেমনই জীবনের নদীতে নিজেদের দুঃখ ঢেলে দেই

Image
 পাহাড়ের কষ্ট যেমন ঝর্ণার স্রোতে বয়ে চলে, আমরাও ঠিক তেমনই জীবনের নদীতে নিজেদের দুঃখ ঢেলে দেই পাহাড়ের কষ্ট যেমন ঝর্ণার স্রোতে বয়ে চলে, আমরাও ঠিক তেমনই জীবনের নদীতে নিজেদের দুঃখ ঢেলে দেই। কিন্তু ঝর্ণা যেমন সবাইকে শীতলতা দেয়, তেমনই আমাদের দুঃখ কেউ অনুভব করে না। আমরা হাসি, সুখ বিলাই, কিন্তু সেই হাসির অন্তরালে আমাদের কত কষ্ট আর বেদনার জাল বোনা, তা কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। জীবনে অভিমান আর বেদনার তাড়নায় আমাদের হৃদয় বারবার ক্ষয় হয়ে যায়, কিন্তু সেই হৃদয়ের প্রকৃত রূপ কেউই দেখে না। এক সময়ের স্বপ্ন দেখা হৃদয়, যা কান্না লুকিয়ে রাখে এবং সেই কষ্টকে আড়ালে রেখে সকলের জন্য আলোর উৎসব সৃষ্টি করে। অনেক সময়ই দেখা যায়, কেউ আমাদের জীবনে এসে আমাদের গল্প শুনে আলোকিত হয়, আমাদের হাসিতে আনন্দ পায়, কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে যে মেঘের মতো জমে থাকা বেদনা, তা কেউই দেখে না। প্রিয়জনদের হাসির আড়ালে যে যন্ত্রণা বয়ে বেড়াই, তা গভীর। অনিশ্চয়তা আমাদের জীবনে বারবার আঘাত হানে, আর সেই অনিশ্চয়তার আগুনে আমাদের হৃদয় তিলে তিলে ক্ষয় হতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে পাশে থেকেও আমাদের নীরবতা কেউ বোঝে না, পাথরের মতো কঠিন অভিমান আমাদের ব্যথ...

সত্যিকারের জ্বিনের গল্প: "ছাদের সেই রাত"

Image
 সত্যিকারের জ্বিনের গল্প: "ছাদের সেই রাত" রাত তখন গভীর, চারদিক নিস্তব্ধ আর প্রকৃতির কোলাহল যেন থমকে গেছে। হঠাৎ আমার চোখ খুলে গেল। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি, রাত ঠিক ২টা। কেন যেন ঘুম আসছিল না। ছোটবেলা থেকেই মধ্যরাতে উঠলে একটা অদ্ভুত অস্বস্তি অনুভব করি। তবে আজ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি, যেন কেউ আমার দিকে চেয়ে আছে। একটু পানি খেয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ছাদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের বাসার ছাদ থেকে শহরের বেশ কিছু অংশ দেখা যায়, এবং এসময় সেটা বেশ অদ্ভুত সুন্দর দেখায়। ছাদে এসে দাঁড়িয়ে আছি, মৃদু বাতাস বইছে। তবে যেন কিছু একটা ঠিক নেই। একটু দূরেই তাকিয়ে দেখি, সাদা কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে ভাবলাম হয়তো কারো টাওয়াল বা কাপড় ঝুলে আছে, কিন্তু ঠিক তেমন লাগছিল না। ভয় একটু একটু করে আমাকে গ্রাস করতে লাগল, তবুও একটু সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বুঝতে পারলাম, সেটা কোনো কাপড় নয়, বরং মানুষের মতো কিছু, যার পুরো শরীর সাদা কাফনে মোড়ানো। মনের ভেতর চিন্তার রেলগাড়ি ছুটে চলেছে, "এইটা কি? এটা কি আসলেই কিছুর শরীর, নাকি কেবল আমার মনের ভুল?" যতই কাছে যাই, ততই সেই অদ্ভু...

ভালোবাসা – সত্যিকারের সম্পর্কের আবেগ ও গভীরতা" ভালোবাসার

Image
ভালোবাসা – সত্যিকারের সম্পর্কের আবেগ ও গভীরতা" ভালোবাসার  স্বামীর কলার ধরে স্ত্রী বলে ওঠলেন, যদি পুরুষ হও তাহলে আমাকে তালাক দিয়ে দাও। তোমার মত মানুষের সাথে আর সংসার করতে চাই না। স্বামী অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর বললেন, আচ্ছা। ঠিক আছে। তাহলে কাগজ কলম নিয়ে আসো। লিখে দিচ্ছি।.. স্বামী স্ত্রীর হাতে কাগজটি দিয়ে বলল, এই যে লিখে দিলাম। এখন এটা নিয়ে সোজা বাপের বাড়ি চলে যাও। ব্যাগ গুছিয়ে সন্তানকে কোলে নিয়ে বৌ বাপের বাড়ি চলে গেল। দশদিন পার হল।  স্বামীর মোবাইল মেসেজ মেসেজ ভরে ওঠতে লাগল। স্বামী নিরুত্তাপ। নিরুত্তর। পনেরতম দিন থেকে শুরু হল কল। কখনো পরিচিত (স্ত্রী শশুর শাশুড়ি শ্যালক শ্যালিকার) নম্বর থেকে, কখনো অপরিচিত নম্বর থেকে। স্বামী কোন ফোনই রিসিভ করে না।.. শেষমেশ বিশ দিনের মাথায় স্বামী ফোন ধরল। স্ত্রী হাউমাউ করে কাঁদছে।  ওগো.. লক্ষী.. সোনা.. আল্লাহর দোহাই.. তোমার মরা বাপের কসম সবই আরো কত কি বলছে। স্বামী সব শুনে বলল, কি বলতে চাও? সরাসরি বলো। এত ন্যাকামি শুনতে চাই না। স্ত্রী: ওগো, আমি তো বুঝতে পারিনি। তুমি ছাড়া আমার কে আছে? তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচবো বল! স্বামী: তুমি ই তো বললে...

লর্ড উইন্টার ও জলকন্যা

Image
  লর্ড উইন্টার  ও জলকন্যা   প্রথম অধ্যায়: শীতের বরফে বন্দি শীতের অন্ধকার রাতে, বরফে ঢেকে থাকা কটেজে একা বসে ছিল এরিথ। সে ছিল এক সাধাসিধে হাফলিং, যার একমাত্র ভালোবাসা ছিল ঋতুর রূপান্তর। তার হাতে ছিল সেলাইয়ের কাঁটা, আর সে বুনছিল বসন্তের টেপেস্ট্রি—ফুলের রং, পাখিদের গান এবং ধীরে ধীরে উষ্ণতায় ভরপুর একটি ঋতুর প্রতিচ্ছবি। কিন্তু তার চারপাশে ছিল ঘন বরফের চাদর, যেন চারপাশে মৃত্যু একে একে হাজির হচ্ছে। হঠাৎ, কটেজের দরজায় একটি ধাক্কার শব্দ। কে এমন বরফে আসতে পারে? এরিথ ভয়ে কেঁপে উঠল। তার সামনে হাজির হল এক ছায়ামূর্তি। ধীরে ধীরে সেই মূর্তি স্পষ্ট হলো। লর্ড উইন্টার: "এরিথ, তোমার বসন্তের এই টেপেস্ট্রি আমাদের শীতকে শেষ করতে চলেছে। এ পৃথিবীতে এক ঋতু শাসন করবে, আর তা হবে আমার শীত।" এরিথ: "কিন্তু আমি এই পৃথিবীতে বসন্তের রূপ নিয়ে আসতে চাই! এই পৃথিবীর প্রাণীদের জন্য উষ্ণতা প্রয়োজন। তুমি কে, যে আমাকে থামাবে?" লর্ড উইন্টার: "আমি আছি শীতের শক্তি নিয়ে, আর তোমার এই বসন্তের চেষ্টার জন্য তোমাকে মূল্য দিতে হবে। তুমি কখনোই এটি শেষ করতে পারবে না, এরিথ।" এরিথ বুঝতে পারল যে লর্ড উইন্টার...

মহান সুফী সাধক মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি রহ: ও তিতির পাখি

Image
মহান সুফী সাধক মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি ও তিতির পাখি মহান সুফী সাধক মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি ও তিতির পাখি মহান সুফী সাধক জালালউদ্দিন রুমি একবার একটা বনের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা বড় কালো তিতির পাখি ধরে ফেলেন। রুমি যখন ভাবছেন যে, পাখিটাকে কীভাবে খাবেন; আগুনে ঝলসে; নাকি তরকারি রান্না করে! এমন সময় পাখিটি বলে ওঠে— ‘রুমী তুমি তোমার এই জীবনে এতো গোশত খেয়েছো; অথচ তোমার এই আমিষের আকুতি শেষ হয়না।  তুমি যদি আমাকে মুক্ত করে দাও; আমি তোমাকে তিনটি পরামর্শ দেবো; যা তোমার জীবনকে সন্তোষ আর শান্তিতে ভরে দেবে।’ রুমি কিছুটা বিচলিত হয়ে বলেন— “আমার হাতে বসেই প্রথম পরামর্শটা দাও; যদি পছন্দ না হয়; সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করবো তোমাকে।” পাখিটি রাজি হয়ে বলল— ‘তুমি সব সময় তোমার বন্ধুদের উদ্ভট সব আলোচনায় বিচলিত হয়ে পড়ো।  এর চেয়ে তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দাও। তাতে তোমার জীবন শ্রেয়তর হবে।’ রুমি কিছুটা চিন্তা করে নিয়ে ভাবতে থাকেন; পাখিটার কথায় বোধ আছে। সুতরাং দ্বিতীয় পরামর্শ দিতে বলেন। পাখি বলে— ‘তুমি আমায় ছেড়ে দিলে ওই গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শটা দেবো।’ রুমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে ছে...