Posts

গল্প: রাতের ট্রেন

Image
 গল্প: রাতের ট্রেন   রাত গভীর। ট্রেনটি অজানা গন্তব্যে ছুটে চলেছে। জানালার পাশে বসে থাকা মানুষটি ঘুমিয়ে নেই, অথচ চোখে এক ধরনের স্থিরতা। এই নিঃসঙ্গ যাত্রীর নাম অনিক। তার মুখে ক্লান্তির ছাপ, অথচ মনের ভেতর চলছে এক উত্তাল ঝড়। বুকপকেটে হাত দিয়ে সে বারবার চিঠিটি স্পর্শ করছে, যেটি সে রেখে এসেছে তন্ময়া নামে একজনের জন্য। চিঠির প্রতিটি শব্দ তার নিজের হাতে লেখা, কিন্তু প্রতিটি বাক্যে রয়েছে অপরাধবোধ আর দুঃখের ছাপ। তন্ময়া কে অনিক মাঝে মাঝে ভালোবেসে নীলা বলেও ডাকে। চিঠি > নীলা, তোমার আমার গল্পটা এখানেই শেষ। আমি জানি, তোমার প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম, একসঙ্গে আমরা সবকিছু জয় করতে পারব। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। তোমার জীবনে শুধু কষ্ট আনাই আমার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই আমি চললাম, এমন এক শহরে, যেখানে তুমি আমাকে আর খুঁজে পাবে না। তোমার জীবন সুন্দর হোক, এই প্রার্থনাই করে যাচ্ছি। তোমার, অনিক। ট্রেনের ভেতর ট্রেনের ঝাঁকি আর রাতের নিস্তব্ধতায় অনিকের মন বারবার পিছনে ফিরে যাচ্ছে। নীলা, যে একসময় তার জীবনের আলো ছিল, আজ সেই আলো তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অনিক জানালার বাইরে তাকায়। ...

গল্প: নীরা এবং কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর কবিতা অবলম্বনে

Image
 গল্প: নীরা এবং কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর কবিতা অবলম্বনে প্রথম অধ্যায়: প্রথম দেখা নীরা আর কবির প্রথম দেখা হয়েছিল এক সন্ধ্যায়। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর রাস্তার ধারে একটা পুরনো কাঠের বেঞ্চিতে বসেছিল নীরা। তার হাতে ছিল একটা বই, চোখে অদ্ভুত শান্তি। কবি তাকে দূর থেকে দেখে থমকে দাঁড়ায়। সেই মুহূর্তে নীরা যেন এক জীবন্ত কবিতা হয়ে উঠেছিল। কবি কাছে গিয়ে বলেছিল, “তোমার দিকে তাকালে মনে হয় তুমি সরস্বতী। যদিও তুমি মানুষ, তবু দেবীর মতো মনে হয়। তোমার কি জানা আছে তুমি কে?” নীরা হেসেছিল, সেই হাসিতে মিশে ছিল রহস্য। “আমি দেবী নই। আমি কেবল নীরা। আপনি কি সবসময় এমন কথা বলেন?” “আমি কবি। যা মনে আসে তাই বলি। কিন্তু তোমাকে দেখে মনে হয়, আশীর্বাদ চাইতে ইচ্ছে করে। দেবীর মতো আশীর্বাদ দাও।” নীরা অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিল, “আশীর্বাদ চাইতে হলে আগে দেবী হতে হয়। আর আমি তো কিছুই নই।” কবি শুধু বলেছিল, “তুমি আছো, এই সত্যটাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে।” দ্বিতীয় অধ্যায়: সম্পর্কের সূচনা এরপর শুরু হয় তাদের কথোপকথন। নীরা এবং কবি, দুই ভিন্ন জগতের মানুষ। নীরা বাস্তবের মাটিতে পা রেখে চলতে চায়, আর কবি সবকিছুতেই রূপক খুঁজে পায়। নীরা হাসে, “আপনি এত ক...

গল্প: সম্পর্কের ভাঙনের শুরু থেকে শেষ

Image
  গল্প: সম্পর্কের ভাঙনের শুরু থেকে শেষ তন্ময়া ছিল স্বাধীনচেতা, আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু সহজেই রেগে যেত। তার ব্যক্তিত্বে ছিল এক ধরনের তীক্ষ্ণতা, যা ভালোবাসার সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল। আর অনিক? তিনি ছিলেন নরম মনের মানুষ, তন্ময়ার রাগ-অভিমান সামলাতে সবসময় প্রস্তুত। তবে ধীরে ধীরে, তন্ময়ার অহংকার আর রাগ তাদের সম্পর্কের ফাটল আরও গভীর করে তুলতে থাকে। তন্ময়া প্রায়ই অনিককে শুনিয়ে বলত, “তুমি কিছুই পারো না। তোমার সঙ্গে থেকে আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে।” এই কথাগুলো অনিককে ভেতর থেকে ভেঙে দিত। কিন্তু আরোহীর জন্য সব কিছু সহ্য করত সে। অনিকের বোঝাপড়া অনিক চুপচাপ ছিল, কারণ সে জানত, তন্ময়া যা বলে, সবসময় সেটা মনের কথা নয়। কিন্তু একদিন সেই চাপা অভিমান ফেটে পড়ল। “তুমি কি জানো, তন্ময়া? আমি তোমাকে ভালোবেসে সব মেনে নিই। কিন্তু তোমার প্রতিটি কথায় আমার আত্মমর্যাদা ক্ষতবিক্ষত হয়।” তন্ময়া এই কথার কোনো গুরুত্ব দিল না। বরং সে তীক্ষ্ণ স্বরে বলল, “তুমি কখনো নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করো না। আমাকে বোঝার চেষ্টা করো না।” আরোহীর প্রতি উপেক্ষা তাদের ঝগড়া এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, আরোহীও এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। বাবা-মায়ের মধ্...

তন্ময়া সিরিজ অচেনা অতিথি: নিরবতার প্রচণ্ড ক্ষমতা

Image
  তন্ময়া সিরিজ অচেনা অতিথি: নিরবতার প্রচণ্ড ক্ষমতা রাত গভীর। তন্ময়া তার ডায়েরির পাতায় শেষ লাইনগুলো লিখছিল। চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা। হঠাৎ, দরজায় একটা টোকা পড়ল। চমকে উঠে সে চোখ তুলে তাকাল। এই সময়ে? এত রাতে কে? তন্ময়া দরজা খুলতেই সামনের মানুষটাকে দেখে থমকে গেল। অনিক। সেই অনিক, যে একসময় তার জীবনের সমস্ত সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিল। যে হারিয়ে গিয়েছিল তার জীবন থেকে কোনো এক ভোরে। অনিক কিছুক্ষণ তন্ময়ার দিকে চেয়ে থেকে বলল, "তুমি কি এখনো নিরবতার ক্ষমতা অনুভব করতে পারো, তন্ময়া?" তন্ময়া কোনো কথা বলল না। তার চোখে-মুখে হাজারো প্রশ্ন। অনিক ভেতরে এসে বসে বলল, "আরোহী কেমন আছে?" তন্ময়া এবার ধীর কণ্ঠে বলল, "আরোহী? সে তো তোমারই জীবনের অংশ ছিল। এখন তাকে ভুলেই গেছো?"  অনিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "তাকে কি করে ভুলে যাই,  সেই তো আমাদের বন্ধন।" তোমাকে আর আরোহী ছাড়া সব ভুলতে চাই। "সব ভুলতে চাই, তন্ময়া। নিজেদের জন্য বাঁচতে চাই। এই ভাই-বোন, সম্পর্কের সাপলুডু খেলায় আমরা ক্লান্ত। আমাদের জীবন আমাদের, তাদের জীবন তাদের।" তন্ময়া স্থির হয়ে রইল। তার মনে পুরোনো ...

গল্প: তোমাকে আমার মত করে দেখতে চাই

Image
 তোমাকে আমার মত করে দেখতে চাই তন্ময়া জানালার পাশে বসে ছিল। চাঁদের আলো তার মুখে পড়ছিল, কিন্তু তার চোখে ছিল অন্ধকারের ছায়া। অনিকের কথাগুলো তার মনে বারবার ফিরে আসছিল: "আমি চাই তোমাকে সবাই আমার মতো করে দেখুক। আমাকে যেমন সবাই মাথায় করে রাখে, তেমনি তোমাকেও। আমার বউকে সবাই সম্মান করুক। আমাদের সারা জীবন একসাথে থাকতে হবে। তাই আমি চেয়েছি তোমাকে আমার মতো করে সাজিয়ে নিতে।" অনিকের এই চাওয়াটা ভালোবাসা, না কি তার ইচ্ছা নিজের মতো করে তন্ময়াকে তৈরি করার? তন্ময়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল। "অনিক চায় আমাকে তার মতো করে বানাতে। কিন্তু আমার নিজস্বতা? আমার ইচ্ছা, আমার মতামত?" অনিকের দিক থেকে দেখলে, তার চাওয়া ছিল একটা ভালোবাসার প্রকাশ। সে চেয়েছিল তন্ময়া হোক তার জীবনের প্রতিচ্ছবি, যেন তন্ময়ার সম্মান, মর্যাদা, আর সুখ তার নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু তন্ময়ার চোখে, এই চাওয়াটা যেন তার নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার শামিল। সে মনে মনে বলল, "ভালোবাসা কি নিজের ইচ্ছা অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া? নাকি একে অপরকে বুঝে, একে অপরকে জায়গা দেওয়া?" অনিক অন্যদিকে বসে ছিল একা, তার মনে চলছিল অন্য রকমের চিন্তা। ...

গল্প: তন্ময়া, এক অসমাপ্ত অধ্যায়

Image
 তন্ময়া, এক অসমাপ্ত অধ্যায় রাত গভীর। অনিকের হাতের কলম থেমে থেমে চলছে। প্রতিটি শব্দ যেন তার হৃদয় থেকে উঠে আসছে, আর কাগজে ছাপা পড়ছে তার মনের সমস্ত ব্যথা। কাগজের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্ত থামে অনিক। তার চোখে ভেসে ওঠে তন্ময়ার মুখ। সেই অগণিত স্মৃতি—ভালোবেসে কাছে টানা, আর তারপরও দূরে সরে যাওয়া। "তন্ময়া," অনিক ফিসফিস করে বলে, যেন সে কাগজের উপর তার অনুভূতিকে প্রার্থনা করছে। "আমার পরিবারের প্রত্যেকে তোমাকে যে কষ্ট বা অপমান করেছে, সেই প্রতিটি কষ্ট আমার বুকে গেঁথে আছে। আমি তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে, আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছি, তোমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।আমার প্রতিবলের ধরনটা হয়তো ভিন্ন। আমার ভাই, বোন, এমনকি তাদের ভয়ংকর স্ত্রীদের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি তোমার হয়ে কথা বলেছি। তাদের ভুলের জন্য তোমার প্রতি অন্যায় আচরণ মেনে নিতে পারিনি। তন্ময়া, আমি এখনও তাদের বোঝাই। তারা কতটা ভুল করেছে, আমি তাদের দেখিয়ে দেই।" অনিক জানে, তন্ময়া এসব বুঝতে পারে না।  কিন্তু তবুও, অনিক কখনো তন্ময়ার জন্য নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। সে ভাবে, তার ভাই বোন যেভাবে তন্ময়াকে অপমান করেছে, সেই কষ্টগুলো যেন তার নিজের হ...

গল্প: আরোহীর জন্য চিঠি

Image
 গল্প: আরোহীর জন্য চিঠি বাবার শেষ চিঠি সন্ধ্যার আলো ম্লান হতে শুরু করেছে। আরোহী ঘরের কোণে ছোট্ট চেয়ারে বসে আছে। তার চোখে জল, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু শব্দ বের হচ্ছে না। তার সামনে টেবিলে একটি চিঠি রাখা। তন্ময়া রান্নাঘরে ব্যস্ত, কিন্তু তার মনও আজ ভারী। আরোহী সেই চিঠি বারবার হাতে নেয়, খোলে, পড়ে, কিন্তু কিছুতেই বাবার কথা মনে করে কান্না থামাতে পারে না। চিঠিতে লেখা: > আমার প্রিয় আরোহী, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। আমি জানি, তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ। কিন্তু, আম্মু, তুমি শক্ত হতে হবে। পৃথিবীটা অনেক কঠিন জায়গা। এখানে যারা নরম, তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই। আমি তোমার মার কাছে নরম হয়ে দেখেছি, কী পেয়েছি? অপমান, অবহেলা। আরোহী, আমি চাই না তুমি আমার মতো কষ্ট পাও। তুমি শক্ত হও। তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়। কিন্তু আম্মু, বাবারা কাঁদে না, বাবারা সন্তানদের কাঁদতে দেখে নিজেকে শেষ করে ফেলে। আমি চেয়েছিলাম তোমার জন্য সবকিছু ঠিক করে দিতে, কিন্তু সেটা আর সম্ভব হলো না। তাই আমি তোমাকে তোমার সবচেয়ে আপন মানুষ, তোমার মায়ের কাছে রেখে এসেছি। তোমার মা হয়তো আমার অনেক দোষ-ত্রুটি বলবে। তুমি শুনবে। কিন্তু মনে রে...