ছোট গল্প গাছেরা কথা বলে
ছোট গল্প
গাছেরা কথা বলে
![]() |
ছেলেবেলার ফুল বাগান |
শাহিনের ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি অদ্ভুত এক ভালোবাসা। অন্য সব ছেলেমেয়েরা যখন খেলনা নিয়ে মেতে থাকে, তখন শাহিনের ধ্যানজ্ঞান যেন কেবলই গাছ। ওর মনে হতো, গাছেরা কথা বলে, হেসে ওঠে, তার মন বোঝে। সে ছোটবেলায় মাকে এই কথা বললে মা হাসতে হাসতে বলতেন, “গাছেরা কি আর কথা বলে নাকি! পাগল ছেলে একটা।” মায়ের কথায় হয়তো কিছুটা অভিমান হতো শাহিনের, তবু তার গাছের প্রতি মমতার কমতি ছিল না।
![]() |
গাছেরা কথা বলে |
ওরা দুই ভাই—শাহিন আর রাশেদ। রাশেদ ওর বড় ভাই, বয়সে চার-পাঁচ বছরের বড় হবে। দুই ভাইয়ের মধ্যে বাইরের লোকেরা একটা মধুর সম্পর্ক দেখলেও, মা বুঝতেন সব। রাশেদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ঈর্ষা কাজ করত, বিশেষ করে বাবা-মা শাহিনকে একটু বেশি আদর করতেন বলে। ঈর্ষার এই বীজটা রাশেদের মনকে ভারী করে তুলেছিল। মায়েরা সব বোঝেন, তাই মা বুঝতেন, রাশেদের এই আচরণটা এক ধরনের নিজস্ব দূর্বলতা থেকেই আসে।
![]() |
ছাদ বাগান |
শাহিনের শখ ছিল নিজের হাতে গাছ লাগানো। উঠানে যতটুকু জায়গা পেত, সব জায়গা ছোট ছোট ফুলের গাছে ভরে তুলত। পেছনে লাগাত বড় বড় ফলের গাছ। গাছগুলোকে নিজের সন্তানের মতো যত্ন নিত। কিন্তু রাশেদ ছিল এর ঠিক উল্টো। ওর কাছে গাছের প্রতি এই ভালোবাসাটা যেন অবান্তর লাগত। ও প্রায়শই নানা অজুহাতে শাহিনের গাছগুলো কেটে ফেলত। মা কিছু বললে রাশেদ শুনত না। রাশেদের এই আচরণে শাহিন কষ্ট পেলেও, ভাইকে কিছু বলত না।
![]() |
কষ্ট |
রাশেদের বিয়ের পর পরিস্থিতি যেন আরও বদলে গেল। রাশেদের স্ত্রী দিপা ওর চেয়েও বেশি লোভী এবং স্বার্থপর। দিপার ধারণা ছিল, পিছনের জায়গাটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে হলে, শাহিনের গাছগুলো সরাতে হবে। একদিন শাহিনকে বলে, “তোমার গাছগুলোর চেয়ে জায়গাটা আমাদের কাজে লাগবে। গাছ কেটে ফেলো।” শাহিন কিছু বলে না, কিন্তু কষ্টে তার বুক ভারী হয়ে আসে।
![]() |
লোভ |
এরই মাঝে শাহিনেরও বিয়ে হয়ে যায়। ওর স্ত্রী মলি স্নেহশীল মনের মেয়ে, আর গাছের প্রতি মমতা যেন শাহিনের চেয়েও বেশি। সে শাহিনের গাছগুলোকে ভালোবেসে যত্ন নেয়, গাছ লাগাতে সাহায্য করে। তাদের বাড়িটা যেন গাছপালায় ভরে ওঠে। কিন্তু একদিন ছোট্ট একটি বিষয় নিয়ে মলি অভিমান করে বাপের বাড়ি চলে যায়।
মলির চলে যাওয়ার পর থেকেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। শাহিনের লাগানো নতুন নতুন গাছগুলো একে একে মরে যেতে শুরু করে। কিন্তু রাশেদের লাগানো গাছগুলো ঠিকই সবুজ থাকে। শাহিন প্রথমে কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু কয়েকবার চেষ্টা করেও যখন গাছগুলো বাঁচাতে পারে না, তখন তার মনটা ভেঙে যায়।
![]() |
একাকীত্ব |
![]() |
গাছদের মুত্যু |
কৌতূহলী শাহিন একদিন সাহস করে পাউডারটা হাতে নিয়ে পরীক্ষা করে। গন্ধটা কাপড়ের ব্লিচিং পাউডারের মতো। ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, রাশেদ মশার ওষুধ নয়, বরং ব্লিচিং পাউডার ছিটাচ্ছে যা গাছের গোড়ায় গিয়ে পচন ধরায়। এতে গাছগুলো মরে যায়। শাহিনের মনে সন্দেহ জাগে, হয়তো রাশেদ ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করছে, তার গাছগুলো মেরে ফেলার জন্য।
![]() |
ভিডিও |
মলিকে সব জানালে, সে বলে, “রাশেদ ভাই কেন এমন করছেন? হয়তো আমাদের জায়গাটা দখল করতে চান। এখন আমাদের কিছু একটা করতে হবে।” শাহিন আর মলি ঠিক করল, এবার রাশেদের কাজগুলো প্রমাণ করার জন্য ভিডিও ধারণ করবে। তারা একদিন লুকিয়ে থেকে রাশেদের সব কাজ ভিডিও করে।
![]() |
বিষ |
ভিডিওতে দেখা যায়, রাশেদ সত্যিই ব্লিচিং পাউডার ছিটাচ্ছে, যেন শাহিনের গাছগুলো মরে যায়। শাহিন ভিডিওটি দেখে বিষণ্ণ হয়। এতদিনের বিশ্বাস ভেঙে যায়। শাহিন এবার রাশেদের সামনে এসে দাঁড়ায়। রাশেদ প্রথমে বিব্রত হয়ে কিছুটা অস্বীকার করতে চাইলেও, শেষ পর্যন্ত শাহিনের কথায় কোন জবাব দিতে পারেনি। রাশেদের স্ত্রী দিপা এসে ঝগড়া করতে শুরু করে। সে ভুল স্বীকার না করে বরং শাহিনের গাছপালার শখকেই দোষারোপ করে।
![]() |
কান্না |
শাহিন শান্তভাবে বলে, “গাছ কেবল আমাদের নয়, প্রকৃতিরও একটা অংশ। তুমি চাইলে অন্য জায়গায় জায়গা পেতে, কিন্তু গাছগুলো এভাবে মেরে ফেলা কি ঠিক?” শাহিনের এই কথা শুনে রাশেদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দ্বন্দ্ব এতটাই বেড়ে যায় যে, পরিবারের শান্তি বলে আর কিছু থাকে না।
![]() |
বন্ধ দরজা |
শেষ পর্যন্ত শাহিন আর মলি সিদ্ধান্ত নেয়, ওরা অন্য জায়গায় চলে যাবে। শাহিনের গাছপালার প্রতি ভালোবাসা মরে না, কিন্তু ভাইয়ের প্রতি বিশ্বাসের জায়গাটা ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যায়। শাহিন সবকিছু ছেড়ে দেয়, গাছেরা কথা বলে না আর, কিন্তু শাহিনের মনে হয়, ওর গাছের মর্মভেদী নীরবতা এখনো প্রকৃতির বুকে বাজে।
![]() |
চলে যাওয়া |
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
সুন্দর গল্প
ReplyDelete