Posts

গল্প ভালোবাসার ছাই

Image
  গল্প    ভালোবাসার ছাই    রুপা: তুমি কি কখনো ভেবেছো, প্রেম আসলে কী? আফরান: প্রেম তো… ভালোবাসা, যত্ন। তুমি জানো, সবাই বলে– কিন্তু কেউ ঠিকভাবে জানে না। তোমার কাছে প্রেম কী, রুপা? রুপা: (একটু বিরতি নিয়ে) আমার কাছে প্রেম হলো অন্যরকম। হয়তো একটি সুর, হয়তো একটা অনুভূতি… কখনো কখনো ভয়, আবার কখনো অভিমান। কখনো কখনো চুপিসারে চলে আসে, আবার কখনো তুমুল ঝড়ের মতো আসে।   আফরান: এতো অদ্ভুত লাগছে তোমার কথা! কই, আমি তো শুধু বিশ্বাস করেছি, ভালোবাসার মধ্যে কোনো প্রতিদান নেই। রুপা: কিন্তু সমাজ কী বলে জানো? তারা বলে, নারীর প্রেমে ক্ষমতা নেই। শুধু সমর্পণ আছে। কিন্তু আমি চাই, আমার ভালোবাসায় সমানাধিকার থাকুক। আমি নিজেকে কেবল উৎসর্গ করবো না। আফরান: (একটু চুপ থেকে) তুমি হয়তো ঠিক বলছো… সমাজ আমাদের ভালোবাসা নিয়ন্ত্রণ করে, আমাদের চিন্তাভাবনা বাঁধে। তুমি কি তাহলে এর জন্য ভালোবাসায় দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ো? রুপা: (মৃদু হাসি দিয়ে) দ্বিধা নেই, আছে বোঝাপড়া। জানো, প্রেম শব্দটি অনেকটা ছাইয়ের মতো।  প্রেম শেষ হওয়ার পর সেই ছাইয়ে হাত দিলে ভালোবাসার স্মৃতি খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু সত্যিই, সেই ছ...

জীবনানন্দ দাস অনুপ্রেরিত আবার আসিব ফিরে

Image
জীবনানন্দ দাস অনুপ্রেরিত  আবার আসিব ফিরে আবার আসিব ফিরে, এই পৃথিবীর বুকে, হয়তো এক নতুন রূপে, নতুন পরিচয়ে, হয়তো ঝরা পাতার শব্দে, বা নদীর স্রোতের মৃদু কলকল ধ্বনিতে। আবার আসিব ফিরে, চৈত্রের সেই শূন্য গাছে, হয়তো প্রথম কচি পাতার মতো, বা বৈশাখের ঝড়ে ভাঙা খেয়াল হয়ে। হয়তো আসিব বাতাসে মিশে, তোমার চুলের বেণী ছুঁয়ে যাবো স্নেহের মতো।   আবার আসিব ফিরে, জ্যোৎস্নার নরম আলো হয়ে, তোমার জানালায় ছুঁয়ে যাবো গভীর রাতে, অজানায় ডেকে যাবে নিঃশব্দে, বিষণ্ণ এক স্মৃতির দোলায়।   আবার আসিব ফিরে, তোমার পথের ধুলোবালিতে, হয়তো পথিকের পায়ের নিচে, অস্পর্শের এক গানে বাজিয়ে যাবো, আমার না বলা সব কথা।     আবার আসিব ফিরে, তোমার মনের কোণে, এক অজানা ইচ্ছের দাহ হয়ে, যে জ্বলবে এক নীরব আশায়, কখনো অঝোরে বৃষ্টি হয়ে, কখনো রৌদ্রের হাসিতে।   আসিব ফিরে, নিরবচ্ছিন্ন ভালোবাসার গানে, যা মিলিয়ে যাবে না কোনোদিন, প্রতিটি জন্মে, প্রতিটি স্পর্শে, এই পৃথিবীর পরম মায়ায়, আবার আসিব ফিরে।

কবিতা ও কবি অবেলায় এসে

Image
          কবিতা ও কবি           অবেলায়  এসে আমি চেয়েছিলাম, আমার প্রতিটি অনুভূতিতে মিশে যাবে তোমার ছোঁয়া। আমি রাত বললে, তুমি হবে রাতের নীরবতা, তুমি হবে আঁধার। আমি দিন বললে, তুমি হবে আলোর পথ— পথের দিশারী হয়ে চলবে আমার সঙ্গে। আমি যখন মেঘাকাশ চাইব, তুমি ভাসবে বৃষ্টির বিন্দুর মতো, আমার মেঘে ভরা আকাশে। কিন্তু তুমি হলে না কিছুই, কিছুই না— না রাতের আধার, না দিনের আলো, না মেঘের বৃষ্টি। তুমি এলে না আমার প্রতিচ্ছবি হয়ে।   এখন এই অবেলায় এসে দাঁড়ালে তুমি, যখন আমি দাঁড়িয়ে আছি প্রস্থানপথে। সব মেনে নিতে চাইছো তুমি, যখন আমি হারিয়ে গেছি অজানার পথে। এই বিরহ, এই নিঃসঙ্গতা রেখে যাবে শুধু  স্মৃতি, গভীর ব্যথার গল্প— তুমি চেয়েছিলে সামান্য কিছু, আমি চেয়েছিলাম সমস্তটা  চাওয়াগুলো কি বেশি কিছু ছিলো, না কি সবই ছিলো তোমার উদাসীনতা।  এখন সব মেনে নিয়েছি আমি, রেখে দিয়েছি সেই বিরহের স্মৃতি— একটি অস্পর্শ ব্যথার গল্প, যা বলে না কিছু, শুধু থেকে যায় নীরবতার মাঝে, অবেলায়।

ভুতের গল্প বিলকুরিয়া গ্রামের অভিশপ্ত আত্মা

Image
                     ভুতের গল্প         বিলকুরিয়া গ্রামের অভিশপ্ত আত্মা বিলকুরিয়া গ্রামে পূর্ণিমার রাতগুলো কখনোই স্বাভাবিক নয়। প্রতি পূর্ণিমার রাতে এখানে ঘটে যায় এক অলৌকিক কাণ্ড। এই রাতে দরকার হয় একজন জীবিত মানুষ, যে হবে মৃতদের ক্ষুধার শিকার। কিন্তু এবার গল্পটা একটু অন্যরকম। রফিক সাহেব, শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক, গ্রামের গল্পগাথায় মোটেও বিশ্বাসী নন। তার ছাত্র রিয়াদ হাসানের বাড়ি থেকে মাগুর মাছের ঝোল খাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে গ্রামের দিকে রওনা হন। দিনটা খুব সুন্দরভাবেই শুরু হয়েছিল। রফিক সাহেব সকালে গ্রামের পথে রওনা দেন রিয়াদের আমন্ত্রণে। গ্রামের সবুজ-শ্যামল দৃশ্য দেখে তিনি বিমোহিত হন। পথে রিয়াদের সাথে কথা বলতে বলতে গ্রামের মনোরম পরিবেশে মগ্ন হয়ে যান। রফিক সাহেব বলেন, “তোমাদের গ্রামটা যেন সত্যি একটা শান্তির জায়গা। আর এখানে এসে এতটা ভালো লাগছে যে, মনে হয় কয়েকদিন এখানেই থেকে যাই।” রিয়াদ একটু সশব্দে হাসল, তবে তার হাসির মধ্যে ছিল একরকম চাপা ভাবনা। সে বলল, “স্যার, আমাদের গ্রামে থাকা এত সহজ নয়। প্...

সক্রেটিস ও বউয়ের গল্প

Image
 সক্রেটিস ও বউয়ের গল্প গ্রীষ্মের এক বিকেলে এথেন্সের সরু রাস্তাগুলোতে হেঁটে যাচ্ছিলেন সক্রেটিস। পাশের অলিগলিতে মানুষজন চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। "সারাদিন কথার পাট না ছেঁড়ে যে লোকটা শুধু জ্ঞান দেয়, সেও কিনা দুই বিয়ে করলো!" সক্রেটিস এসব শুনতে পান, কিন্তু তার মুখে একফোঁটা বিরক্তির ছাপ নেই। বরং, তার চোখে যেন গভীর কোনও ভাবনার ছায়া। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি ছিলেন রূপবতী, তবে তার মেজাজ ছিল ভয়ানক। প্রতিদিনের ঘরোয়া ঝগড়াঝাঁটিতে মুখে মুখে লেগে থাকতেন তিনি। "সারাদিন শুধু বসে বসে কথা বলো, আর কিছু করো না!" এমন সব অভিযোগ শুনতে শুনতে, একসময় জ্যানথিপি তার চরম সীমায় পৌঁছান। তিনি ভাবেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিন তাদের ঘরে নিত্য অভাব লেগে থাকবে। এদিকে সক্রেটিসের এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় মির্টো নামের এক মেয়ের সাথে। মির্টো ছিলো শান্ত, তবে দৃঢ়। তার সাথে একটা সহজ সম্পর্ক তৈরি হয় সক্রেটিসের। তারা বুঝতে পারেন, একে অপরের প্রতি তাদের মনের অনুভূতি গভীর। এরপর সক্রেটিস সিদ্ধান্ত নেন, মির্টোকেও বিয়ে করবেন। কিন্তু তিনি জানেন, এই সিদ্ধান্তে জ্যানথিপির প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।...

রহস্য গল্প পাঁচু সর্দারের বাঁশঝাড়

Image
রহস্য গল্প পাঁচু সর্দারের বাঁশঝাড় পাঁচু সর্দারকে এলাকাতে সবাই ভয় পায়। সুঠাম দেহ, সাহস আর অদম্য শক্তির জন্য সে শুধু তার গ্রাম নয়, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামেও পরিচিত। কোনো সমস্যাই তার কাছে বড় নয়, তার মনে হয়, সব সমস্যারই সমাধান সে দিতে পারবে। কিন্তু একদিন তার সাহস এবং শক্তির পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রকৃতি যেন নিজেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। বিকেল বেলা, পাঁচু সর্দার হেঁটে যাচ্ছিলো গ্রামের পাশে পুরোনো বাঁশঝাড়ের দিকে। এই বাঁশঝাড়টা গ্রামের লোকজন এড়িয়ে চলে, কারণ তারা জানে এখানে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি বাস করে। কিন্তু পাঁচু এসব কথায় কান দেয় না। "বাঁশঝাড়ে ভূত! হাস্যকর!" বলে সে হাসতে থাকে। হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস তার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, গা ছমছম করা একটা অনুভূতি তাকে আঘাত করে। পাঁচু সর্দার তবু থামে না, সে বাঁশঝাড়ের ভেতরে প্রবেশ করে। হঠাৎ তার সামনে কিছু একটা এসে দাঁড়ায়—অদৃশ্য, অথচ ভয়ানক। পাঁচু প্রথমে বিষয়টাকে মজা ভেবে উড়িয়ে দেয়, কিন্তু অদ্ভুত কণ্ঠের আওয়াজে তার হাসি মিলিয়ে যায়। "তুই এখানে কেন?" গম্ভীর গর্জনের মতো একটা শব্দ শোনা যায়, আর পাঁচুর মনে হয় তার মাথার ওপর বিশাল কিছু ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।...

সেপারেশন ম্যারেজ

Image
সেপারেশন ম্যারেজ    মিথিলা আর শুভর বিয়েটা হয়েছিল বেশ আয়োজন করে। পরিবারের সবাই ভেবেছিল তারা একসাথে সুখে সংসার করবে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের মাঝে এক অদ্ভুত সমস্যা দেখা দিল। মিথিলা কাজের প্রয়োজনে সব সময় শহরের বাইরে, আর শুভর অফিসের কারণে তাকে শহরেই থাকতে হয়। দুজনেই ভীষণ ব্যস্ত, আর এই ব্যস্ততা তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলছিল। একসাথে সময় কাটানো তো দূরের কথা, দেখা করাই যেন বিরল হয়ে গিয়েছিল। প্রথম দিকে তারা সম্পর্কটাকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যত দিন গড়াচ্ছিল, ততই তাদের মধ্যে মতের অমিল বাড়তে লাগল। একদিন মিথিলা বলল, "শুভ, তুমি কি জানো জাপানে এখন নতুন এক ধরনের বিয়ের ট্রেন্ড চলছে—'সেপারেশন ম্যারেজ'? স্বামী-স্ত্রী বিয়ের পরেও আলাদা থাকে, সপ্তাহে একদিন দেখা করে।" শুভ কিছুটা অবাক হয়ে বলল, "সত্যি? কিন্তু আমাদের দেশে তো এটা অসম্ভব।" মিথিলা একটু হাসল, "অসম্ভব না হলেও, আমাদের পরিস্থিতির জন্য এটা বরং ভালো সমাধান হতে পারে।" প্রথমবারের মতো আলাদা থাকা একদিন তারা সিদ্ধান্ত নিল, দুজনেই আলাদা থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একসাথে সময় কাটাবে, আর ...